আর্জেন্টাইন ফুটবলের নবজাগরণ ও মহাকাব্যিক সাফল্যের প্রধান নেপথ্য নায়ক লিওনেল স্কালোনিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সব ধোঁয়াশা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। আকাশী-সাদা শিবিরের ডাগআউটে এই সফল ট্যাকটিশিয়ানকে দীর্ঘমেয়াদে রেখে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটার কথা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
ইতালীয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোষ্ট ও আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এএফএ’র প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করে আগামী ২০৩০ পর্যন্ত নিজের ভবিষ্যৎ আর্জেন্টিনার সঙ্গেই বেঁধে দিয়েছেন পুজাতোর এই কৃতি সন্তান। এর মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে হোর্হে সাম্পাওলির বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে শুরু হওয়া তার ঐতিহাসিক অধ্যায়টি এক দশক পার করে যুগ পূর্ণ করার সুবর্ণ সুযোগ পেল।
চুক্তির নীতিগত বিষয়গুলোতে দু’পক্ষ সম্মত হলেও নথিপত্রে চূড়ান্ত স্বাক্ষর ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়া এখনো বাকি। আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোতেই এই চুক্তিতে সিলমোহর বসাতে চায় এএফএ। সে সময় ঘরের মাঠে বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক লা বোম্বোনেরায় উরুগুয়ে এবং কর্দোবায় কোস্টারিকার বিপক্ষে জোড়া প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে দু’বছরের মেয়াদ নির্ধারিত থাকলেও টুর্নামেন্ট শেষে চুক্তির শর্ত মেনে মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়িয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার একটি স্বয়ংক্রিয় ধারা যুক্ত থাকছে। আর এই চুক্তির পেছনে কাজ করছে অনন্য এক আবেগীয় সংযোগ, ২০৩০ শতবর্ষী বিশ্বকাপের অন্যতম উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনাতেই! এতে ঘরের মাঠের দর্শকে ঠাসা স্টেডিয়ামে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ মিশনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে স্কালোনির সামনে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনা দলের এই সুবর্ণ সময়ের পেছনের মাস্টারমাইন্ড কেবল স্কালোনি একা নন, বরং তার সুসংগঠিত কোচিং স্টাফদের অবদানও অনস্বীকার্য। স্কালোনির এই ডাগআউট বিপ্লবেই আর্জেন্টিনা জয় করেছে ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা, কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার খেতাব। এমনকি ২০২৬ সালের বিশ্বমঞ্চেও দলকে রানার্সআপ বানিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছিল এই দলটি। তাই মূল কোচের পাশাপাশি পুরো কোচিং প্যানেলকেই ২০৩০ পর্যন্ত ধরে রাখার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এএফএ।
তবে এই সফল কোচিং স্টাফদের ধরে রাখার যাত্রায় মূল চ্যালেঞ্জ স্কালোনির প্রধান সহকারী ও দীর্ঘদিনের সুহৃদ ওয়াল্টার স্যামুয়েলকে নিয়ে। স্যামুয়েলকে নিজের ডাগআউটে ধরে রাখার ইচ্ছা ও আবেগ প্রকাশ করে এক সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেছিলেন, ‘স্যামুয়েল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ হওয়ার পাশাপাশি আমার সেরা বন্ধু। সে যদি ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তবে সেই অধিকার তার রয়েছে। তার জন্য আমাদের দরজা সবসময় খোলা। তবে সে না থাকলে তা হবে আমাদের জন্য বড় এক ক্ষতি এবং সে না থাকলে পরবর্তীতে পরিস্থিতি কেমন দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’
আর সম্প্রতি বেনিনের বিপক্ষে কিংবদন্তি লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে স্কালোনি জানিয়েছিলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমি কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাব।’
স্কালোনি এবার হাঁটছেন সেই পথেই। পেস ও ট্যাকটিকসের জাদুতে ২০১৮ সালের পর থেকে আর্জেন্টিনার পুনর্গঠন ও জয়ের রথ ছোটাচ্ছেন এই কোচ। তাই তো মেসি-পরবর্তী যুগের প্রথম বৈশ্বিক পরীক্ষাতেও স্কালোনিকেই চায় আলবিসেলেস্তেরা।
কেইনের রেকর্ডের রাতে বায়ার্নকে রুখল আর্সেনাল