মার্কিন কূটনীতিকদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

সৌদি আরবে প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটতে থাকায় দেশটি থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের একাংশ এবং সরকারি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার সন্ধ্যায় দেশটির একটি বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবরের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। খবর দ্য গার্ডিয়ানের। 

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলাকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, 'দপ্তরের কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।'

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই নির্দেশ রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং এর অধীনস্থ কনস্যুলেটগুলোতে কার্যকর হবে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর দিকে দূতাবাসটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর কয়েক মাস ধরে সেখানে সীমিতসংখ্যক কর্মী দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিছু কূটনীতিক আবারও সেখানে ফিরেছিলেন।

এদিকে এনবিসি ও এএফপিসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, কাতার ও বাহরাইন থেকেও মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর পরিকল্পনা তৈরি করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে বুধবার দেওয়া বিবৃতিতে টমি পিগট এসব অতিরিক্ত প্রত্যাহারের খবরকে 'ভুল' বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশটি কেবল সৌদি আরব থেকে কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে হুথিদের ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার মুখে পড়েছে সৌদি আরব। এর মধ্যে রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাটি ছিল কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি। হুথিদের সঙ্গে সংঘাতও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতভর হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে বাহরাইন ও কাতারের কাছাকাছি অবস্থিত দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুজন নিহত হয়েছেন।

কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামলায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। বিমানবন্দরটিরও কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, ওই বিমানবন্দর এড়িয়ে অন্য পথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েকটি ফ্লাইট।

এ ছাড়া সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাঠানো ড্রোন প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হামলার দায় স্বীকার করেনি হুথিরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য প্রক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চালানো হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে দেশটির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত