দেশের বিমানবন্দরগুলোর সমস্যারোধে একাধিক সিদ্ধান্ত

  • ড্রোন ব্যবহার করলেই গ্রেপ্তার
    দূতাবাসগুলোতে যাবে চিঠি
    পার্কিং এলাকা হবে স্ক্যানিংযুক্ত
    লাগেজ কাটা পড়লেই তাৎক্ষণিক সাজা
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় সম্ভাব্য দুর্বলতা দূর করা, যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জসংলগ্ন গাড়ি পার্কিং এলাকায় স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু, বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন বন্ধ, যাত্রীর অনুপস্থিতিতে খোলা লাগেজে বিশেষ ট্যাগ সংযুক্তি এবং নিরাপত্তা কার্যক্রমে একক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। পাশাপাশি বিমানবন্দরের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিচালন পদ্ধতি প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মূল্যায়ন সফল করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, যাত্রীসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, আকাশপথের নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্ব পালনে নজরদারি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জসংলগ্ন গাড়ি পার্কিং এলাকায় ডিসেম্বরের মধ্যে আন্ডার ভেহিক্যাল স্ক্যানিং সিস্টেম স্থাপন করতে হবে। এর মাধ্যমে গাড়ির নিচের অংশ পরীক্ষা করে নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে ভিআইপি ও সিআইপি যাত্রীদের কাস্টমস স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হবে।

সব নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধীনে একক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো তৈরি করতে হবে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে দ্রুত প্রতিরোধব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রীর অনুপস্থিতিতে কিংবা ট্রানজিটের সময় নিরাপত্তার কারণে কোনো লাগেজ খোলা হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্টকে নির্ধারিত সিল বা ট্যাগযুক্ত স্টিকার লাগাতে হবে। এতে লাগেজটি কোনো প্রস্থান বা ট্রানজিট বিমানবন্দরে খোলা হয়েছিল, তা শনাক্ত করা সহজ হবে।

বিমানবন্দরের ভিআইপি ও সিআইপি ইমিগ্রেশন এলাকায় অননুমোদিত প্রটোকল প্রদানকারীদের প্রবেশ ঠেকাতেও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে। এ ধরনের সুবিধা পেতে মিশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে বিদেশি দূতাবাসগুলোকে চিঠি পাঠানো হবে। ভিআইপি ও সিআইপি যাত্রীদের কাস্টমস স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও স্মারক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিমানবন্দরের বহিরাঙ্গনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সব সংস্থাকে জাতীয় বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা কর্মসূচি ও এয়ার নেভিগেশন অর্ডার অনুসারে নিজ নিজ দায়িত্বের আদর্শ পরিচালন পদ্ধতি প্রণয়ন করতে হবে।

এদিকে, বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গোর ওপর থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কার্গো ও মেইল-সংক্রান্ত মর্যাদা প্রত্যাহারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত রানওয়ের সমুদ্রবক্ষে স্থাপিত প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইটিং সিস্টেমের তার ও যন্ত্রাংশ চুরি ঠেকাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, নিরাপত্তাব্যবস্থার কিছু ঘাটতি চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে মন্ত্রী ইতিমধ্যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা কেনার প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং এপিবিএনের দায়িত্ব পালনের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। আসন্ন নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত