ফ্রান্সে বিক্ষোভ: প্যারিসের একাধিক এলাকায় বাড়ল কারফিউ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় রাতের কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। গত সপ্তাহান্তে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্যারিস পুলিশ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। খবর ফ্রান্স ২৪।  

এদিকে, শনিবার নতুন করে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পরিকল্পনার আগে লিয়োঁ ও মার্সেই শহরে সব ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল।

শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শনিবার দেশজুড়ে নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

বৃহস্পতিবার প্যারিসে শিক্ষার্থীদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে পুলিশ ওই বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করলেও জরুরি শুনানিতে প্রশাসনিক আদালত নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেন। পরে শত শত শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। গত ১৭ অক্টোবরের সমাবেশের আগে টানা চার সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন।

শুক্রবার শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ম্যাক্রোঁ। শিক্ষকসংকট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে এক মাস ধরে চলা আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম তিনি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভ সামনে রেখে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে ‘প্রতিরক্ষা পরিষদ’-এর বৈঠকও করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর তিনি জানান, শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত নয়—এমন সব বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবোওয়েডের সমন্বয়ক ম্যানুয়েল বোমপার প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার নামে সময় নষ্ট করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

বোমপারের দাবি, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের দাবিগুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সময় নষ্ট করেছেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত