ফ্রান্সে শনিবার ফের বিক্ষোভ, সহিংসতা ঠেকাতে ৭০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী

প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কড়াকড়ি, নিষিদ্ধ মিছিল ঘিরে উদ্বেগ!

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, সামাজিক অসন্তোষ ও সরকারের নীতির প্রতিবাদে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। গত ১৭ অক্টোবরের আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর এবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি সরকার। দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। 

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতা ও জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর অনুমোদিত বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হতে পারবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু মিছিলের পথ পরিবর্তন করা হতে পারে। 

প্যারিসে মিছিল, কয়েকটি শহরে নিষেধাজ্ঞা রাজধানী প্যারিসে শনিবার শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিক্ষোভের কর্মসূচি রয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকেও মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে সব কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। লিয়ঁ ও মার্সেইসহ কয়েকটি শহরে শনিবারের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। 

কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সুযোগ নিয়ে কিছু গোষ্ঠী ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা সরকারি ভবনে হামলার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশি নজরদারি ও নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা হচ্ছে। ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রস্তুতি গত সপ্তাহের বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এসব ঘটনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনসম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শনিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশ ও জেন্ডারমেরির পাশাপাশি বিশেষায়িত ইউনিটও সহায়তা দেবে। সহিংসতা, লুটপাট ও সরকারি স্থাপনায় হামলার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে সরকার। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ নতুন করে বিক্ষোভের ঘোষণায় প্যারিসের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

গত সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকেরা আবারও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন। প্যারিস সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের শনিবার দুপুরের আগেই রাস্তার আবর্জনার পাত্র, সাইকেল, রেস্তোরাঁর বাইরের আসবাব এবং অন্যান্য সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নগর পরিচ্ছন্নতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক হাজারের বেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে কয়েকটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীর সময়সূচি পরিবর্তন কিংবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে সপ্তাহান্তে প্যারিসের পর্যটন, ব্যবসা ও স্বাভাবিক জনজীবনেও প্রভাব পড়তে পারে। রাজনৈতিক চাপের মুখে ম্যাক্রোঁ সরকার

শনিবারের আন্দোলন ফরাসি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রক্ষা, অন্যদিকে সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকানো, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে সরকারকে। বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান নিয়ে নাগরিক অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।

বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো সরকারের নীতির সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। তবে শনিবারের পরিস্থিতি আগামী দিনের রাজনৈতিক বিতর্ক ও সরকারের জনসমর্থনের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মিছিল বা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব এলাকায় অপ্রয়োজনে যাতায়াত এড়িয়ে চলা, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা কাছে রাখা উচিত। 

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীদের পরিস্থিতি অনুযায়ী দোকান খোলা রাখা বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কোনো ধরনের ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুলিশকে অবহিত করা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। 

শনিবারের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে, নাকি নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে, তা নির্ভর করছে আন্দোলনকারীদের আচরণ, প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর। ফ্রান্সজুড়ে এখন মূল লক্ষ্য, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত