৭‌ দি‌নের রিমান্ডে আব্বাস 

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

বাঁশখালীর সর্বদ‌ক্ষি‌নের ইউ‌নিয়ন পেকুয়া ও ব‌ঙ্গোপসাগরবে‌ষ্টিত ছনুয়া ইউ‌নিয়‌নের ক‌তিপয় ব‌্যক্তির বিরুদ্ধে মানব পাচার ও নকল স্বর্ণ ব‌্যবসার অভি‌যোগ দীর্ঘ‌দি‌নের হ‌লেও অপহর‌ণে জ‌ড়িত মো. আব্বাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তা‌রের পর সেটা আবার আলোচনায় আসে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছনুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাছামিয়া বাড়ি এলাকার মৃত ফিরোজ মিঞার ছেলে মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১) এই চক্রের অন্যতম প্রধান তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রবাসী ও বিত্তশালীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অপহরণ চক্রের মূলহোতা সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সিকে তথ্য দিতেন। আব্বাস একসময় বিদেশে থাকলেও দেশে ফিরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তার ভাই এলাকায় ক্যাবল নেটওয়ার্ক (ডিস) ব্যবসা করেন।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর (শনিবার) রাতে পুঁইছড়ি প্রেমবাজারের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ থেকে কালো পোশাক ও মাস্ক পরা চক্রটি "স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন" পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ী হাসানকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থে‌কে ব‌্যবসায়ীর দোকা‌নের ম‌্যা‌নেজারের মাধ‌্যমে পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ব্যবসায়ীকে টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।

পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর (বুধবার) ভোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কক্সবাজারের টেকনাফের আলীখালী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যবসায়ী হাসানকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

এ অপহরণের ঘটনায় ৬ জনতে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে সাবেক সেনা ও র‍্যাব সদস্য সুমন মুন্সি, মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. ছলিম ওরফে সেলিম (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪০)। এদের মধ্যে আব্বাস ও মূলহোতা সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

উদ্ধারের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ব্যবসায়ী হাসানকে বাঁশখালী থানায় এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে অপহরণের ভয়াবহ বিবরণ ও নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতনের শিকার এই ব্যবসায়ী। পুলিশ জানায়, চক্রটির সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং মানব পাচারসহ অন্যান্য অপরাধ দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত