ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে আলো ছড়াবেন, এমন প্রত্যাশা হয়তো খুব বেশি ছিল না তাকে নিয়ে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই লেগ স্পিনারকে চিনতই বা কতজন! তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই পরিচিতির সীমা ভেঙেছেন মোহাম্মদ হোসাইন। ক্যারিবীয় ব্যাটারদের ঘূর্ণির ফাঁদে ফেলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ পেলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারেন তিনিও। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ১২ ওভার ২ বল হাত ঘুরিয়ে ৫৫ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন এই তরুণ।
এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে বিসিবি একাদশ ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। পরে আজ দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩৬ রান। ম্যাচটি ড্র হলেও বল হাতে হোসাইনের পারফরম্যান্স ছিল আলাদা করে নজর কাড়ার মতো।
শুরুতে অবশ্য স্বস্তিতেই এগোচ্ছিল সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতে জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং যোগ করেন ৮৩ রান। কিং ৩৫ বলে ৪০ রান করে আরেক তরুণ ও আলোচিত পেসার অনিক দেববর্মণের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। ক্যাম্পবেল ৭৮ বলে ৬৫ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তেজনারায়ণ চন্দরপল করেন ৩১ রান। এরপরই ম্যাচে নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেন হোসাইন।
প্রথমে কাভিম হজকে মিডঅনের দিকে খেলতে গিয়ে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হতে বাধ্য করেন তিনি। এরপর নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ফেরান জশুয়া ডা সিলভাকে। ১১ রান করা এই ব্যাটারের বিদায়ের পর রোস্টন চেজ ও কেভিন উইকহ্যামের সঙ্গে লড়াইয়ে নামার আগেই হোসাইন তুলে নেন আরও দুই উইকেট। জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলার আগে রক্ষণের ভুলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন জশুয়া জাঙ্গুকে। ৬৮ বলে ৪৪ রান করেন জাঙ্গু।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হোসাইন,‘লেগ স্পিনারদের পারফর্ম করতে পারলে বা ভালো বোলিং করতে পারলে অবশ্যই সুযোগ থাকে। এমন একটা দলের বিপক্ষে খেললে কিছুটা আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এখন এনসিএল চলছে। যখন যেখানে সুযোগ পাব, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ উইকেট থেকে সহায়তা পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন এই তরুণ, ‘বল কিছুটা টার্ন করছিল, উইকেটে বাউন্স ছিল। ওরা কিছুটা বিভ্রান্ত ছিল। তাই কয়েকটি উইকেট পেয়ে গেছি।’
আফগানিস্তানের রশিদ খানকে আদর্শ মানা হোসাইনের সামনে এই প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন তার লক্ষ্য।