‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনে’র নীলনকশার ইঙ্গিত

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, হোয়াইট হাউজে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গোপনে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন। বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারের নতুন প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা তার ফোনের কার্যকলাপ নজরদারি করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলের নেতাদের সঙ্গে কথিত গোপন আর্থিক বন্দোবস্তের তথ্য উদ্ঘাটন করেন। ট্রাম্পের কাছে এসব নেতার স্বার্থ ও নীতিগত এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে ওই আর্থিক বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। কুশনার অবশ্য অভিযোগগুলো জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার ভাষায়, এসব দাবি ‘আপত্তিকর’ এবং ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এগুলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে উপস্থাপন করা কিছু আপত্তিকর বানোয়াট গল্প। এটি সাংবাদিকতা নয়। বরং কল্পনা, মনগড়া কাহিনি ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রচারণার মিশ্রণ। এমন একজন ব্যক্তি এটি লিখেছেন, যিনি হয় গভীরভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, নয়তো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন।’

অভিযোগে যা আছে : ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনটি ম্যাথিউ কোলের প্রকাশিতব্য বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস : জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদের সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট’ থেকে প্রকাশিত একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। উল্লেখ্য, ম্যাথু কোল একজন খ্যাতনামা মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক গোপনীয়তা বিষয়ে সাংবাদিকতা করছেন।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনের সময় নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে জ্যারেড কুশনারের আইফোনের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতেন। এ সময় তারা ইউএইর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি দেখতে পান। ওই অ্যাকাউন্টে আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার জমা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার জমা হয়েছিল ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা একটি অ্যাকাউন্টে। এটি ছিল ইউএই সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত দাতব্য সংস্থা ‘ওয়াতানি আল এমারাত ফাউন্ডেশনের’ নামে। কুশনার ওই অ্যাকাউন্টের একজন অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী ছিলেন। ফলে অ্যাকাউন্টটি ব্যবহারের সুযোগ তার ছিল, যদিও তিনি এর মালিক ছিলেন না। অ্যাকাউন্টটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ এবং ইউএইর শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই। অ্যাকাউন্টটি তৈরির ধারণার পেছনে ছিলেন তাহনুন বিন জায়েদ ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য তারা একটি গোপন তহবিল গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই গোপন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা আর এগোয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই রাজপরিবারের সদস্য কুশনারের জন্য দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্তত দুই বিলিয়ন ডলার জমা করেছিলেন। এ ছাড়া সৌদি রাজপরিবারের সদস্য আরও একটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এক বিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছিলেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে অর্থটি ইসরায়েলে জমা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত