মেয়ের বিচার চাইতে গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়: রুমি

এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৮ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। তিনি দাবি করেছেন, মেয়ের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগের বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করতে নয়। এ সময় তিনি তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন রুমি। এ সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুমি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’

মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে রুমি বলেন, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল বলে তিনি স্বীকার করছেন। তবে সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভাঙা হয়নি। আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। তবে শিক্ষক আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল। ওই সময়ের ভিডিও রেকর্ডও রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রুমি মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি জানানিয়ে বলেন, ‘আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদ্রাসায় এত টাকা কীভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’

শাহজালাল রুমি বলেন, তিনি মাদ্রাসা বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নন। দ্বীনি শিক্ষার জন্যই মেয়েকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করেছিলেন। কিন্তু সেখানে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি উদ্বিগ্ন। আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’

অভিযোগ জানানোর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রুমি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তার কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না।’

রুমি বলেন, ‘আইন যদি মনে করে আমি অপরাধী, তাহলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেব। আইনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে। আমি মামলায় লড়ব। তবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার চাই।’ নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। একজন বাবা হিসেবে মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার অভিযোগ তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। 

সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়ে রুমি বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যে ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তা যদি আপনাদের নিজের সন্তানের সঙ্গে ঘটত, তাহলে আপনারা কি মেনে নিতে পারতেন? আমি আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। এ ছাড়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক আরেকটি অভিযোগ দিয়েছে।

হুমকির অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত