মোঙ্গলদের ভয়াবহ নৃশংসতা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ এএম

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে যাযাবর মোঙ্গলরা ইতিহাসের বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন স্থলসাম্রাজ্য গড়ে তোলে, যা পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শুরু করে পশ্চিমে দানিউব নদী ও পারস্য উপসাগরের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। সাম্রাজ্য বিস্তারে তাদের পথ ছিল কোটি মানুষের রক্তে রঞ্জিত। ইতিহাসবিদদের মতে, মোঙ্গলদের যুদ্ধ কৌশল ও নৃশংসতা বিশে^ আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠে। কোনো শহর জয় করার আগে, আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিত মোঙ্গলরা। কিন্তু কোনো শহর যদি প্রতিরোধ গড়ে তুলত, তবে জয়লাভের পর শহরটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে শিশু ও নারীসহ সবাইকে হত্যা করত। ১২২১ সালে পারস্যের মার্ভ শহর মোঙ্গলরা দখল করে এবং সেখানে প্রায় ৭-১৩ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কারণ তারা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল। চেঙ্গিস খানের নাতি হালাকু খানের নেতৃত্বে মোঙ্গল বাহিনী ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদ আক্রমণ ও ধ্বংস করে। আনুমানিক ৮-২০ লাখ মানুষকে সেখানে হত্যা করা হয়েছিল। যুদ্ধে ‘কুফা’ শহর অবরুদ্ধ করার সময় প্লেগ রোগে আক্রান্ত মৃতদেহগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক যন্ত্র দিয়ে শহরের ভেতরে ছোড়া হয়। ইতিহাসে প্রথম ‘জৈবিক অস্ত্র’ ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে ধরা হয় একে, যা পরবর্তীকালে ইউরোপে প্লেগ মহামারী ছড়াতে ভূমিকা রাখে। ১২৯৪ সালে চেঙ্গিস খানের আরেক নাতি কুবলাই খানের মৃত্যুর পর, মোঙ্গল সাম্রাজ্য চারটি ভাগে বিভক্ত হয়। বিভিন্ন শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে তারা ১৩৬৮ সালে অস্তিত্ব হারায়।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত