জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না। নির্বাচন কমিশনে দলীয় লোক বসানো ও নির্বাচনী এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচন হলে তা সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি জানাই। তা নিশ্চিত হলেই কেবল আমরা নির্বাচনে অংশ নেব, নতুবা নয়। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ। ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিএনপিদলীয় একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে কেন এখানে আনতে হবে এটিই এখন এই দেশের আপামর জনগণের প্রশ্ন।’ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সংসদের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি নিজের এলাকায় গিয়ে বলছেন যেখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে না সেখানে সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এটি অত্যন্ত লজ্জার বিষয় এবং নির্বাচনের আগেই জনগণকে ভয় দেখানোর শামিল। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি জানাই। তা নিশ্চিত হলেই কেবল আমরা নির্বাচনে অংশ নেব, নতুবা নয়।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা এমন একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি যিনি নিজের মন্ত্রণালয়ের চেয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। অথচ মাদক নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কিংবা সমাজে শৃঙ্খলা ফেরাতে তার দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই। আইনশৃঙ্খলার কোনো অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যখন বলেন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো, তখন প্রশ্ন জাগেএই ভালোর মাপকাঠি আসলে কী?’