জ্বর কমলেই ডেঙ্গুর বিপদ কমে না

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

ডেঙ্গু জ্বর কমে গেলেই রোগী বিপদমুক্ত হয়েছেন, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে জ্বর নামার সময় থেকেই শুরু হতে পারে রোগের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়, যাকে বলা হয় ক্রিটিক্যাল ফেজ। এ সময় শরীরে প্লাজমা লিকেজ হলে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।

প্লাজমা হলো রক্তের তরল অংশ। গুরুতর ডেঙ্গুতে রক্তনালির দেয়াল সাময়িকভাবে বেশি ভেদ্য হয়ে পড়ায় প্লাজমা রক্তনালি থেকে বেরিয়ে শরীরের বিভিন্ন টিস্যু, ফুসফুসের চারপাশ কিংবা পেটের ভেতরে জমতে পারে। এতে রক্ত সঞ্চালনে কার্যকর রক্তের পরিমাণ কমে যায়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে রক্তচাপ কমে ডেঙ্গু শক দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।

ডেঙ্গুর তীব্রতা নির্ধারণে শুধু প্লেটলেট কাউন্টের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে হেমাটোক্রিট বা রক্তে লোহিত রক্তকণিকার অনুপাত, রক্তচাপ, পালস প্রেসার, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং রোগীর সামগ্রিক অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হয়। প্লাজমা লিকেজের কারণে হেমাটোক্রিট বেড়ে যেতে পারে, যা রোগীর অবস্থা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এ সময় ফ্লুইড ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী তরল না পেলে রক্ত সঞ্চালন কমে শকের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত শিরায় স্যালাইন দিলে পরে শরীরে তরল জমে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে তরল দেওয়া এবং নিয়মিত রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

জ্বর কমার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক ঝিমুনি বা অস্থিরতা, হাত-পা ঠা-া হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, রক্তপাত কিংবা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গুতে জ্বর কমা মানেই বিপদ কেটে যাওয়া নয়। এই সময় সচেতন থাকা, সতর্ক সংকেত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াই গুরুতর জটিলতা এড়াতে সহায়ক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত