লক্ষ্মীপূজা আজ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ এএম

আজ সনাতন সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা। শাস্ত্রমতে দেবী লক্ষ্মীকে ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। এ ছাড়া দেবী লক্ষ্মীকে উন্নতি, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে বিবেচনা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সাধারণত শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূর্ণিমা তিথিতে ভক্তরা বিনিদ্র থেকে লক্ষ্মীর পূজা করেন বলে এ পূজা  কোজাগরী পূর্ণিমা বা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা হিসেবে পরিচিত। দেশের কোনো কোনো এলাকায় সার্বজনীনভাবেও এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

আশ্বিনী পূর্ণিমা ছাড়াও প্রতি বৃহস্পতিবার গৃহে লক্ষ্মীর পূজা করে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। এ ছাড়া দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যায় সন্ধ্যাবেলা লক্ষ্মীপূজার রীতি প্রচলিত রয়েছে। আজ রাজধানীর জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দির, রমনা কালী মন্দির, গোপীবাগে শ্রী রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনসহ সারা দেশে বিভিন্ন স্থায়ী মন্দির, অস্থায়ী ম-প ও গৃহে নানা আচার ও আয়োজনে লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজার্চ্চনা শেষে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন ভক্তরা। এরপর হবে প্রসাদ বিতরণ। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত তপন ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজ সন্ধ্যা ৭টায় লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তরা সমবেত হবেন। যার যে মনোবাসনা তা ব্যক্ত করে দেবীকে পূজা করবেন। 

দেবী লক্ষ্মীর রূপবৈচিত্র্যের পর্যালোচনা অনুযায়ী, তার জ্যোতি প্রভাত সূর্যের মতো। বিভিন্ন অলংকারে অলংকৃতা এই দেবীর বাহন পেঁচক। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী লক্ষ্মী ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে পূজা গ্রহণ করতে আসেন। ফুল, বিল্ল পাতা (বেল পাতা), ফল, নাড়ু দিয়ে লক্ষ্মীর পূজা হয়। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ করে হিন্দু নারীরা উপবাসব্রত পালন করেন। ঘরবাড়ির আঙিনায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা আঁকা হয়। সন্ধ্যায় হয় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন।

লক্ষ্মীপূজার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো  সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপ চাল ও জল। পূজায় মঙ্গলঘট, ধানের ছড়ার সঙ্গে গৃহস্থের আঙিনায় শোভা পায় চালের গুঁড়োর আলপনায় লক্ষ্মীর ছাপ।

লক্ষ্মীপূজায় রাত্রি জাগরণ করা হয়। সনাতন শাস্ত্র মতে এই রাতে দেবী লক্ষ্মী সবার বাড়িতে যান। যে গৃহের দরজা বন্ধ থাকে ও গৃহস্থরা ঘুমিয়ে থাকেন, সেখান থেকে লক্ষ্মী ফিরে আসেন। এ কারণে এই লক্ষ্মীপূজাকে কোজাগরী বলা হয় এবং এদিন রাত্রি জাগরণের নিয়ম রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত