খুব কম সময়েই আলোচনায় আসা যে কয়েকজন তরুণ মডেল-অভিনেত্রী রয়েছেন, তাদের মধ্যে নাজনীন নাহার নীহা অন্যতম। শুধু অল্প সময়েই নয়, স্বল্পসংখ্যক নাটকে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে খুব সহজেই নিজের দৃঢ় ও শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। টিভি নাটকের পাশাপাশি ওটিটিতেও কাজ করছেন এই শিল্পী। কথা হচ্ছে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের বিষয়েও। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাহাঙ্গীর বিপ্লব
তবে নীহার এক কথা, ‘শুরু থেকেই বুঝেশুনে কাজ করে আসছি। গড্ডলিকায় গা না ভাসিয়ে সবদিক বিচার-বিশ্লেষণ করেই কাজ করে আসছি। সিনেমার ক্ষেত্রেও একই ধারা বজায় রাখব। আমি জানি, সিনেমা হচ্ছে বিনোদনের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম, প্রত্যেক শিল্পীরই বড় পর্দায় নিজেকে দেখার স্বপ্ন থাকে। আমারও নেই তা বলব না। তবে সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ার পক্ষে আমি নই। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমার আরও অনেক ভাবনা-চিন্তার দরকার। একজন সিনেমার নায়িকা হতে হলে আরও অনেক গুণাবলি এবং যেসব দক্ষতার প্রয়োজনÑ সবকিছু আয়ত্ত করেই অভিনয়ে রাজি হব। মোট কথা বলতে চাচ্ছি, নিজেকে পরিপূর্ণ তৈরি করেই সিনেমায় নামব।’
নাটকেও তো তেমন বেশি কাজ করতে দেখা যায় না আপনাকে? এমন প্রশ্নে প্রায় কাছাকাছি জবাব নীহার। তার ভাষ্য, ‘আমি মনে করি সব কিছুতেই একটু সময় নিয়ে কাজ করাই ভালো। কাজ যত কম তত মানসম্মত হবে। কম কাজের কারণে প্রতিটি গল্প ও চরিত্র নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকে। কোনো তাড়াহুড়ো থাকে না। এতে গল্প অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া যায়, চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়। তা ছাড়া অনেক দিন পরপর যখন দর্শক আমাকে দেখবে, তখন তাদের মনেও একটা বাড়তি আগ্রহ থাকবে। এ কারণেই আমার প্রতিটি কাজে ভালো সাড়া মেলে। আমি এভাবেই এগোতে চাই। এখন তো শেখার সময়। সুতরাং সময় নিয়ে কাজ করলে ভালোভাবে শিখতেও পারব। এ ছাড়া আমার পড়াশোনাও এখনো শেষ হয়নি। পড়ালেখায় সময় দিতে হয়। অভিনয় ও পড়ালেখা দুটো ব্যালেন্স করাও কঠিন। এসব কারণেই আসলে কাজের সংখ্যা কম।’
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ‘রহংঃধগ্রাম’ শিরোনামের একটি ইউটিউব ফিল্মে কাজ করলাম। এখানে আমার সঙ্গে রয়েছেন খায়রুল বাসার ভাই। এর মাধ্যমে প্রথমবার বাশার ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করলাম। অনেক ভালো লেগেছে তার সঙ্গে কাজ করে। খুব শিগগিরই এই ফিল্মটি অবমুক্ত করা হবে ইউটিউব চ্যানেলে। তবে শুধু খায়রুল বাশারই নন, সম্প্রতি যেসব কাজ করেছি, তাদের মধ্যে আমার বিপরীতে অনেক জনপ্রিয় অভিনেতাই কাজ করেছেন, যাদের সঙ্গে আগে কখনো কাজ করা হয়নি। তার মধ্যে অতি সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশ হওয়া ‘ভালো আছো তো’ নাটকে প্রধান সহশিল্পী হিসেবে ছিলেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ভাইয়া। নাটকটি এরই মধ্যে দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। আগামীতে আমার আরও কয়েকটি কাজ দেখতে পাবেন দর্শক। সেগুলো পর্যায়ক্রমে জানাব সবাইকে।’
নিজের জনপ্রিয়তা কেমন উপভোগ করেন? নীহা বলেন, ‘সত্যি বলতে ভীষণ উপভোগ করি। এটা আসলে সৃষ্টিকর্তার দয়া যে, অল্প সময়ে সবার ভালোবাসা পেয়েছি। আমার প্রতি দর্শক-নির্মাতাদের আগ্রহ সত্যিই ভালো লাগার। সবার এত ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। এই ভালোবাসার প্রতি দায়বদ্ধতা কাজ করে, দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়। সামনে আরও ভালো কাজ করার উৎসাহ পাই। শখের বশে অভিনয়ে এসে এর প্রতি এত ভালোবাসা জন্ম নেবে তা ভাবতেও পারিনি। এখন পড়াশোনার বাইরে অভিনয়ে সময় দিচ্ছি। দর্শকদের জন্য অনেক ভালো ভালো কাজ করে যেতে চাই। নিজেকে আরও পরিণত করতে চাই।’