নারায়ণগঞ্জে ব্যবহারের আগেই ভাঙা পড়ল ১৬ লাখ টাকার শৌচাগার

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নবীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় ‘উপজেলা টাউন মাস্টার প্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় গণশৌচাগারটি (পাবলিক টয়লেট) নির্মাণ করা হয়।

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

জনগণের ব্যবহারের জন্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল গণশৌচাগারটি। তবে সেটি ব্যবহারের আগেই ভেঙ্গে দিয়েছে রেলওয়ের উচ্ছেদকারী টিম। এতে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) দাবি ভাঙার আগে তাদের দপ্তরকে কিছু জানানো হয়নি। অপরদিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি,  তাদের জমিতে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়েছিল। সে কারণে উচ্ছেদ অভিযানে অন্যান্য স্থাপনার সঙ্গে গণশৌচাগারটিও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের নবীগঞ্জ রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় ‘উপজেলা টাউন মাস্টার প্ল্যান ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় গণশৌচাগারটি (পাবলিক টয়লেট) নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল শেষ হয়। পরে স্থাপনাটি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে গণশৌচাগারটি হস্তান্তর হলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরেই পড়ে ছিল। সেটিকে চালু করেনি বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ।

এদিকে, গত ১২ অক্টোবর বন্দরের নবীগঞ্জে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে শৌচাগারটি ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানে আসা রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের জমিতে স্থাপনাটি নির্মাণের বিষয়ে আগে কোনো চিঠি দেয়া হয়নি বা অবহিত করা হয়নি।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম সামিক ইশরাক জানান, স্থাপনাটি নির্মাণের পর তিনি দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। নির্মাণকালে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তিনি জানান, এটি ভাঙার আগে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। উচ্ছেদের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানান।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার বলেন, উচ্ছেদের পর বিষয়টি জেনে তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়েছে, তাদের জমিতে সমন্বয় বা অবহিতকরণ ছাড়াই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এ কারণে উচ্ছেদ অভিযানে সেটি ভেঙে ফেলা হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহাম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ব্যবহৃত নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদা খানমের মুঠোফোন একাধিকবার কলা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে প্রায় ১৬ লাখ টাকার স্থাপনা ব্যবহার শুরুর আগেই নষ্ট হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের স্থান নির্বাচন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না এবং উচ্ছেদের আগে দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত