‘ক্রসফায়ার’ বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বোঝাননি আইজিপি: পুলিশ

মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করতে আইজিপি এই শব্দবন্ধটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন।

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩১ এএম

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, তিনি ‘ক্রসফায়ার’ বলতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার কথা বোঝাননি। আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে তিনি শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার চকবাজারে একটি ব্যাংকিং সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি মন্তব্য করেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’ তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপরই বিভ্রান্তি দূর করতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর দাবি করেছে, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করতে আইজিপি এই শব্দবন্ধটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে ৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আইনসম্মত আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। এসব দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়।

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করা একটি মন্তব্যের বিষয়ে পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করার উদ্দেশ্য আইজিপির ছিল না এবং এটি অসাবধানতাবশত হয়েছে।

আইজিপির এই বক্তব্যের পর টিআইবি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং অধিকার সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। টিআইবি আইজিপির এই বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক বার্তা’ এবং ‘পেশাগত দেউলিয়াত্ব’ বলে অভিহিত করে তার অপসারণ ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে। 

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনো সরকারের প্রশাসনিক অনুমতিই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত