জাপানি সহায়তার মেগা প্রকল্প দ্রুত সমাপ্তি চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো গতকাল সোমবার টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দ্রুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা দেওয়া এবং কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য জাপানকে অনুরোধ জানানো হয়।

জবাবে জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে  দুই দেশের মধ্যে ‘দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলা, একটি ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী’ প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি সহযোগিতা বাড়ানো। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে তারেক রহমান চার দিনের সরকারি সফরে গতকাল সকালে টোকিও পৌঁছান। আজ মঙ্গলবার দুই দেশের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

জাপান বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি গতকাল তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে আরেকটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারেক রহমান দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

মাসুমি কাকিনোকি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তারা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশই তরুণ। দেশটিতে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এটি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী।

তারেক রহমান ২০০৬ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জাপান সফরে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। তারো আসো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির সংসদের কয়েকজন সংসদ সদস্যরা তারো আসোর সাক্ষাতের সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাতের সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ২৯ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত