প্রকৃতিতে হেমন্তের আগমনে দিগন্তজোড়া সবুজ ধানক্ষেত যখন কাঁচা হলুদের রঙে সাজতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই উত্তরের আকাশ রাঙিয়ে দৃশ্যমান হলো হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ। গতকাল সোমবার সকালে ভোরের আলো ফুটতেই পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। প্রকৃতির এই মনোহর রূপ যেন এক পরম বিস্ময়। এর আগে গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০ লাখেরও বেশি পর্যটক তেঁতুলিয়ায় এসে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। কিন্তু ছুটির দিনগুলো পার হতেই মেঘের পর্দা সরে গেছে, আর পর্যটকদের ভাগ্যাকাশে ধরা দিয়েছে হিমালয়ের এই মোহনীয় পর্বতশৃঙ্গ।
সাধারণত প্রতি বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত আকাশ মেঘমুক্ত ও কুয়াশাহীন থাকলে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে হিমালয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। ভোরের আলোয় পর্বত চূড়াটি প্রথমে সিঁদুরের মতো লাল রঙ ধারণ করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা রুপালি ও শুভ্র সাদা রঙে রূপ নেয়, যা আকাশের সঙ্গে মিশে যায়। দুপুরের পর দার্জিলিং পাহাড়ের গাঢ় সবুজের কোল ঘেঁষে বিকেল পর্যন্ত এই রূপ স্থায়ী হয়। আর বিকেলের নরম আলোয় তা আবারও আবির রাঙা হয়ে ওঠে।
বরিশাল থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু আলিয়া মান্নান নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে বসে কাঞ্চনজঙ্ঘার এমন সৌন্দর্য দেখা সত্যি এক চমৎকার অনুভূতি। আমি গাড়িতে আসার পথেই সকালের আকাশে এই রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে, দোল পূর্ণিমার রাতের পর ভোরে যখন কাঞ্চনজঙ্ঘার বুকে চাঁদের আলো পড়ে, সেই দৃশ্য এক কথায় অভাবনীয়।’ ঢাকার সাভার থেকে আসা পর্যটক ফরিদুল ইসলাম জানান, ‘আজ (সোমবার) সকালেই ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়ায় পৌঁছেছি। এসেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়ে গেলাম! নিজেকে সত্যিই ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’ রংপুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে আসা অর্ণব জানান, গত ৫ বছর ধরে নিয়মিত তেঁতুলিয়ায় আসছেন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে। এবারই প্রথম তার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক সামিউজ্জামান জানান, ‘এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে। আজ (সোমবার) সকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েক দিন আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা আরও বেশ কিছু দিন স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।’ পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তেঁতুলিয়া টুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর লোকেশ চন্দ্র দাশ বলেন, ‘দর্শনার্থীদের ভ্রমণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি।’
তেঁতুলিয়া ইউএনও আনোয়ার হোসাইন বলেন, ‘চলতি মৌসুমের মধ্যে আজকেই (সোমবার) সবচেয়ে সুন্দর ও স্পষ্টভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নভেম্বর মাসজুড়েই পর্যটকরা এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন বলে আশা করছি। পর্যটকদের নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।’