পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সবার পরিচিত মুখ পরোপকারী মো. হাফেজ শিকদার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সোমবার জানাজা শেষে নিজ বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়েছে। ৭৫ বছর বয়সে নিজের খনন করা কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন হাফেজ শিকদার। গত শনিবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন সোমবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান তিনি। তার দুই স্ত্রী, তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।
জানা যায়, মৃত্যুর দ্ইু বছর আগেই নিজের কবর খুঁড়ে রাখেন হাফেজ শিকদার। এ ছাড়া মৃত্যুর কয়েক দিন আগে কাফনের কাপড়, গোলাপজল ও আতর কিনে আনেন। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি। গতকাল তার খননা করা কবরে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের তৈরি বনজ ওষুধ দিয়ে মানুষের উপকার করার পাশাপাশি গরু, মহিষ ও ছাগলের চিকিৎসায়ও সহযোগিতা করতেন তিনি। কেউ বিপদে পড়লে কিংবা কোনো পরিবারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে সেখানে তার উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক বিষয়। কেউ মারা গেলে কবর খনন ও দাফনকাজে সবার আগে ছুটে যেতেন তিনি। পরিচয়হীন, অসহায় মানুষের মরদেহ দাফনেও রেখেছেন ভূমিকা। জীবদ্দশায় ৩৯৬ জনের কবর খনন ও দাফনকাজে সহযোগিতা করেছেন তিনি। কৃষিজীবী হাফেজ শিকদার ছিলেন অত্যন্ত মিশুক ও পরোপকারী। এই গুণের কারণে তিনি কুয়াকাটায় সবার পরিচিত মুখ ছিলেন।
হাফেজ শিকদারের নাতি মিরাজ শিকদার জানান, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে থেকেই তার দাদা বিভিন্নজনের কাছে নিজের বিদায়ের কথা বলছিলেন। তিনি বলতেন, বেশি দিন থাকব না, আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। দুই স্ত্রীর কাছ থেকেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। কাছের অনেক মানুষের সঙ্গে দেনা-পাওনার বিষয়েও কথা বলেছেন।