আবাসন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ এএম

রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন প্রকল্প ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গণপূর্তের মিরপুর ডিভিশনে ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উপ-সহকারী ও সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা শেখ মোহাম্মদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে। ১ হাজার ৮৮ কোটি টাকার ওই প্রকেল্পর মেয়াদ চারবার বাড়িয়েও পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি ঠিকাদাররা। অন্তত ১৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এরই মধ্যে গত ২ অক্টোবর এই আবাসনের ১ নম্বর ভবনের লিফট ছিঁড়ে শিশুসহ তিনজন আহত হয়। আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, লিফটটি দীর্ঘদিন ধরেই ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং সামান্য মেরামত করে বারবার চালু করা হয়েছিল। এ ঘটনার তদন্তে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ভবনটির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ লিফট ছিঁড়ে তিনজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, আবাসনের ভবন নির্মাণকালীন এর রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন শেখ মোহাম্মদ এনামুল হকসহ আরও কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে এই প্রকল্প থেকে টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে এবং ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং মানহীন লিফট ক্রয় ও নিম্নমানের কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এনামুল হক বর্তমানে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই গণপূর্তের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গত জানুয়ারিতে বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পদে তাকে পদায়ন করা হয়। সেখান থেকে সম্প্রতি রাঙ্গামাটির কাপ্তাই গণপূর্তে বদলি করা হয়। বরগুনায় ৮ মাস থাকাকালীন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ৫ শতাংশ কমিশন ছাড়া বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করতেন না বলে একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ তুলেছেন। এ ছাড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও চিফ জুডিশিয়াল আদালত ভবণ নির্মাণে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় তাহজিবুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. জাকারিয়া।

এসব বিষয়ে জানতে শেখ মোহাম্মদ এনামুল হককে কল করলে তিনি একবার কল রিসিভ করেন। এরপর প্রশ্ন করতেই কলটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত