গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে খুন হয়েছেন বাবা। গতকাল সোমবার ভোরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুস সামাদ (৬০) একই গ্রামের মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্ত ছেলের নাম আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন অভিযুক্ত আনোয়ার। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাবা আব্দুস সামাদ তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে আনোয়ার তার বাবার ওপর চড়াও হন এবং তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আনোয়ারকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
এদিকে ফেনীর দাগনভূঞায় মেয়ের বঁটির কোপে সেতারা বেগম (৮০) নামে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে রিনা আক্তারকে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর গ্রামের বাদশাহ মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতারা বেগম পূর্বচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত হোসেন আহমেদের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে সেতারা বেগমের মেয়ে রানু আক্তার অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি তার স্বামীকেও মারধর করেন। এ ঘটনার পর পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তার মানসিকসহ অন্যান্য চিকিৎসা চলছিল। রবিবার রাতে হঠাৎ রানু ঘরের অন্য সদস্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ধারাল বঁটি দিয়ে তার মাকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই সেতারা বেগমের মৃত্যু হয়। পরে রানু বঁটি হাতে নিয়ে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াতে থাকেন এবং ভেতর থেকে দরজা আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পুলিশ বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সেতারা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রানুকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনা শোনামাত্র পুলিশ গিয়ে ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা সেতারা বেগমের লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রানুর মানসিক সমস্যা রয়েছে। তবে কী কারণে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।