ফ্রান্সে মাখোঁর অগ্নিপরীক্ষা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ এএম

ফ্রান্সজুড়ে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, সরকারের ওপর চাপ ধরে রাখতে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো। আগামী ৩১ অক্টোবর ফের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর পাশাপাশি ৫ নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘটেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। এ সময় মোতায়েন ছিল ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য। এর ফলে ১৭ অক্টোবরের মতো লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা এড়ানো গেছে। সেদিন দেশের বহু শহরে এ ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, মজুরি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও গণসেবা নিয়ে হতাশা মাঠে নামা শিক্ষার্থী আন্দোলনের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর ছড়িয়ে পড়ছে। বামপন্থি ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সলিডেয়ার্সের সহ-নেতা মুরিয়েল গিলবার বিএফএম টিভিকে বলেন, ‘আমরা ক্ষোভের একটি সম্মিলিত রূপ দেখতে পাচ্ছি। তিনি জানানÑ শিক্ষার্থী, শ্রমিক, দমকলকর্মীসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর অভিযোগ একসঙ্গে মিলে যাচ্ছে। শিক্ষকদের সংগঠন এসইউডি এডুকেশন জানিয়েছে, তারা ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভে যোগ দেবে। দেশের বড় ইউনিয়ন সিজিটি সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে। ২০১৮ সালে জ্বালানি করের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ থেকে উঠে আসা তৃণমূল আন্দোলন ইয়েলো ভেস্টস-ও আগামী শনিবার গণসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টাউন হল ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সামনে অবস্থান কর্মসূচি।’

ফ্রান্সজুড়ে এই আন্দোলন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জন্য অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালে ইয়েলো ভেস্টসের আন্দোলনের মুখে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জ্বালানির দাম কমানোর মতো সম্পদ জোগাড় করতে পেরেছিলেন। সাত বছর পর এখন সরকারের টানাপড়েনে থাকা রাজকোষ বিক্ষোভকারীদের দাবি মেটানোর সুযোগ খুবই সীমিত করে দিয়েছে। আগামী এপ্রিলে শেষ হচ্ছে তার মেয়াদ। বড় আইন পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাও তার মধ্যপন্থি দলের হাতে নেই। সংকট প্রশমনে সরকার ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তবে এ পর্যন্ত সরকারের প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোকে অপর্যাপ্ত বলছেন আন্দোলনের নেতারা। গিলবার বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আমরা কোনো সাড়াই পাইনি’। দেশটির পুলিশ ইউনিয়নগুলো জানায়, গত শনিবারের মতো বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের জন্য পর্যাপ্ত জনবল তাদের নেই। ওই মোতায়েনের কারণেই প্যারিস ও মার্সেইসহ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষের ঘটনা সীমিত ছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত