একটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার গল্প লেখা থাকে তার কৃষকের মাঠে, গবেষণাগারের নিরলস অনুসন্ধানে, বাজারের পণ্যমূল্যে আর মানুষের প্রতিদিনের খাবারের থালায়। মাঠভরা সোনালি ধান যেমন সম্ভাবনার ছবি আঁকে, তেমনি সেই ধান ঘরে তোলা কৃষকের ন্যায্যপ্রাপ্তি কিংবা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মনে করিয়ে দেয় খাদ্যের প্রাচুর্য আর খাদ্যনিরাপত্তা এক বিষয় নয়। একটি দেশ কতটা খাদ্য উৎপাদন করছে, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই খাদ্য কতটা নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সবার নাগালের মধ্যে রয়েছে।
কৃষকের শ্রম, কৃষিবিষয়ক গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যের বাজারদর এবং পুষ্টির চাহিদা সবকিছুর সমন্বয়েই নির্ধারিত হয় আগামীর খাদ্যনিরাপত্তার পথ।
উৎপাদন বাড়লেই নিশ্চিত হয় না খাদ্যনিরাপত্তা
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে খাদ্য উৎপাদন ও প্রযুক্তির অগ্রগতি সত্ত্বেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ ও সংঘাত, দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্যের অসম বণ্টন বহু মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তিকে অনিশ্চিত করে তুলছে।
বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। ধান, গম, ভুট্টা, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, দুধ, ডিম ও মাংস সব মিলিয়ে দেশের খাদ্যব্যবস্থা গড়ে উঠেছে কৃষক, খামারি, জেলে, শ্রমিক ও অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। কৃষি উৎপাদনে অগ্রগতি দেশের খাদ্যপ্রাপ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার সবার কাছে সাশ্রয়ী দামে পৌঁছে দেওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
বাজারে খাদ্যের সরবরাহ থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাবার কেনা কঠিন হয়ে পড়ে। আয় সীমিত হলে খাদ্যতালিকা থেকে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ফল কিংবা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ কমে আসে। ফলে পেট ভরলেও শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হয় না। খাদ্যনিরাপত্তার প্রকৃত অর্থ তাই শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন নয়; বরং সবার জন্য সবসময় নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাবারের সুযোগ নিশ্চিত করা।
কৃষকের ঘামে গড়ে ওঠে খাদ্যের ভিত্তি
খাদ্যব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার কৃষক। জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ বপন, পরিচর্যা, সেচ, সার প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহ প্রতিটি ধাপে কৃষকের শ্রম জড়িয়ে থাকে। কিন্তু উৎপাদনের ঝুঁকি বহন করেও অনেক সময় কৃষক ন্যায্য দাম পান না। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সার ও বীজের মূল্য, সেচের ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি এবং বাজারের অনিশ্চয়তা তাদের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
অন্যদিকে অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত আবহাওয়া ফসল উৎপাদনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। কোনো অঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হচ্ছে, কোথাও পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকছে। কৃষকের এই সংকট শেষ পর্যন্ত খাদ্যের সরবরাহ ও বাজারদরেও প্রভাব ফেলে। তাই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, মানসম্মত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি পরামর্শ এবং কার্যকর বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষককে কেবল খাদ্য উৎপাদনকারী হিসেবে দেখলে চলবে না; দেশের খাদ্যব্যবস্থার স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের হাতে উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য পৌঁছালে কৃষিকাজে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়বে আর তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক খাদ্যব্যবস্থায়।
গবেষণাগারে তৈরি হয় আগামীর কৃষির সম্ভাবনা
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদি জমির সীমাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও টেকসই করে তোলা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি, ভেটেরিনারি বিজ্ঞান, পশুপালন, মৎস্যবিজ্ঞান, কৃষি প্রকৌশল ও কৃষি অর্থনীতিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণা পরিচালিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সমন্বয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস), আর গবেষণালব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্র (বাউএক)। এ ছাড়া ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটি (আইআইএফএস) খাদ্যনিরাপত্তা, খাদ্যের গুণমান, পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে আন্তঃবিষয়ক গবেষণার সুযোগ তৈরি করেছে।
উন্নত ফসলের জাত, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, পানি ও সারের দক্ষ ব্যবহার, প্রাণীর স্বাস্থ্য, মাছের উৎপাদন এবং নিরাপদ খাদ্য নিয়ে গবেষণা দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে গবেষণার সুফল তখনই বাস্তব হয়ে ওঠে, যখন তা কৃষকের মাঠে পৌঁছায় এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, কৃষক ও
কৃষি সম্প্রসারণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। গবেষণাগারের জ্ঞান ও কৃষকের বাস্তব অভিজ্ঞতার এই সংযোগই পারে আগামীর বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তাকে আরও টেকসই ভিত্তি দিতে।
পুষ্টির প্রশ্নে শুধু ভাত নয়, চাই সুষম খাদ্য
খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। পর্যাপ্ত ক্যালরি পেলেই শরীরের সব প্রয়োজন পূরণ হয় না। সুস্থভাবে বেঁচে থাকা ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন শর্করা, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও পর্যাপ্ত পানির সুষম সমন্বয়। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, গর্ভবতী নারীর সুস্থতা, কর্মক্ষম মানুষের দৈনন্দিন শক্তি এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই পুষ্টিকর খাবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের খাদ্যতালিকায় ভাতের প্রাধান্য
থাকলেও সুষম পুষ্টির জন্য ডাল, মাছ, ডিম, দুধ, শাকসবজি ও ফলমূলের পর্যাপ্ত উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু আয়, খাদ্যের দাম, খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে অনেক পরিবারে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে পুষ্টিশিক্ষা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, মাতৃ ও শিশুপুষ্টি কার্যক্রম এবং পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ জরুরি।
খাদ্যনিরাপত্তার আলোচনায় তাই উৎপাদনের পাশাপাশি মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পুষ্টিজ্ঞান এবং সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পুষ্টিকর খাবারকে মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলেই খাদ্যের প্রাপ্যতা প্রকৃত অর্থে সুস্বাস্থ্যের ভিত্তি হয়ে উঠবে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাও বড় দায়িত্ব
খাদ্য শুধু পর্যাপ্ত হলেই চলে না, সেটি হতে হয় নিরাপদ। উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রতিটি পর্যায়ে খাদ্য দূষিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনিরাপদ পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ব্যবহার, জীবাণুর সংক্রমণ এবং ভুল তাপমাত্রায় খাবার সংরক্ষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কৃষক ও খাদ্য উৎপাদকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত নজরদারি, স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণব্যবস্থা, কার্যকর পরীক্ষাগার এবং আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ভোক্তাদের সচেতনতাও প্রয়োজন। ফলমূল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধোয়া, রান্না করা খাবার ঢেকে রাখা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা এবং খাবার যথাযথভাবে সংরক্ষণের মতো অভ্যাস খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই এই ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। উৎপাদক থেকে ভোক্তা প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা গেলে খাদ্যের গুণমান রক্ষা করা সহজ হবে।
খাবারের অপচয় মানে সম্পদের অপচয়
খাদ্যসংকটের আলোচনায় খাদ্যের অপচয়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফসল সংগ্রহের পর যথাযথ সংরক্ষণের অভাব, পরিবহনে ক্ষতি, বাজারজাতকরণে দুর্বলতা এবং ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত খাবার ফেলে দেওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয়। অথচ এই খাবার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়েছে জমি, পানি, জ¦ালানি, শ্রম ও অর্থ।
খাদ্যের ক্ষতি কমাতে আধুনিক সংরক্ষণাগার, উন্নত পরিবহনব্যবস্থা, কার্যকর শীতল সরবরাহ শৃঙ্খল এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার নেওয়া এবং নিরাপদ উদ্বৃত্ত খাবার অপচয় না করে কাজে লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
খাদ্যের প্রতিটি দানার সঙ্গে মানুষের শ্রম ও প্রকৃতির সম্পদ জড়িয়ে আছে। সেই উপলব্ধি থেকে অপচয় কমানো ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণেরও অংশ।
জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন কৃষি উৎপাদন ও মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত, পানি সাশ্রয়ী সেচ, মাটির উর্বরতা রক্ষা, ফসলের বৈচিত্র্য, আবহাওয়ার আগাম তথ্য এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতির প্রসার জরুরি। প্রযুক্তি ও গবেষণার সুফল যেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকের কাছেও পৌঁছায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ খাদ্যব্যবস্থা যত বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দুর্যোগ সহনশীল হবে, সংকটের সময় মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তি তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
আগামীর বাংলাদেশ হোক ক্ষুধামুক্ত ও পুষ্টিসমৃদ্ধ
বিশ্ব খাদ্য দিবস আমাদের খাদ্য উৎপাদনের সাফল্যের পাশাপাশি সেই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলোও বুঝতে সাহায্য করে। ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টিকর খাবারের সুযোগ বাড়ানো, কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং খাদ্যের অপচয় কমানো এসব লক্ষ্য একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।
এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ। কৃষকের পাশে দাঁড়ানো, গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্য বাজার নিশ্চিত করা, পুষ্টিশিক্ষা বিস্তৃত করা এবং খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়ন প্রতিটি পদক্ষেপই খাদ্যনিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত, কৃষক, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
একটি সমৃদ্ধ দেশের পরিচয় কেবল তার উৎপাদনের পরিমাণে নয়, বরং সেই উৎপাদনের সুফল কতটা মানুষের জীবনে পৌঁছায়, তার মধ্যেও নিহিত। যে দেশে কৃষকের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হবে, গবেষণার জ্ঞান মাঠে কাজে লাগবে, খাবার হবে নিরাপদ ও পুষ্টিকর এবং কোনো মানুষ ক্ষুধার কারণে বঞ্চিত থাকবে না সেই দেশই প্রকৃত অর্থে খাদ্যনিরাপদ।