হ্যারি কেইনের হাতে যখন ব্যালন ডি’অরের সোনালী ট্রফিটি উঠছিল, তখন অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ইতিহাস লিখছিলেন ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের হতাশা আর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে বর্ষসেরার লড়াইয়ে সেরা তিনের বাইরে পঞ্চম স্থানে জায়গা পাওয়া, সব মিলিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অর উপহার দিয়েছে এক অদ্ভুত সমীকরণ।
তবে এই পঞ্চম স্থান অর্জনই ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে এনে দিয়েছে আউটফিল্ডের খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ পাঁচে জায়গা পাওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলারের অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড।
মনোনয়ন পাওয়া আসরগুলোর হিসেবে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেরা তিনের বাইরে গিয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে বর্ষসেরার লড়াই শেষ করলেন ইন্টার মায়ামি অধিনায়ক। সোনালী ক্যারিয়ারের শুরুতে ২০০৬ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২০তম স্থানে থাকা, যেবার বিজয়ী ছিলেন ইতালির ফাবিও কান্নাভারো, এবং ২০১৮ সালে লুকা মদরিচের হাতে পুরস্কার ওঠার বছরে পঞ্চম হওয়া; এই দীর্ঘ দুই ঐতিহাসিক অর্জনের সাথে এবার যুক্ত হলো ২০২৬ সালের এই নতুন অধ্যায়টি।
এমনকি মাঝে ব্যতিক্রম হিসেবে ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালগুলো বাদ দিলে, যখন তিনি মূল মনোনয়নের তালিকাতেই ছিলেন না, পুরো ক্যারিয়ারে সেরা তিনের বাইরে থাকার এই অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিন ইয়ামাল এবং রদ্রির ঠিক পেছনে থেকে যখন তাঁর নাম পঞ্চম স্থানে উচ্চারিত হলো, তখন তা যেন এক যুগের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব ফুটবলে এক নতুন প্রজন্মের পদধ্বনির কথাই স্পষ্ট মনে করিয়ে দিল।
অথচ বিশ্বমঞ্চের এই লড়াইয়ে মেসির ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ছিল বরাবরের মতোই উজ্জ্বল। চলতি মৌসুমে মায়ামির জার্সিতে ৩১ ম্যাচে ২৭ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি, বিশ্বকাপে আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে মাত্র ৮ ম্যাচেই ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্টের অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছিলেন তিনি। ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের বেদনা না থাকলে হয়তো রেকর্ড নবম ব্যালন ডি’অরও চলে আসত তাঁর শোকেসে।
আর এই পারফরম্যান্সের সুবাদেই ৩৯ বছর চার মাস বয়সে ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত তালিকার শীর্ষ পাঁচে নিজের নাম লিখিয়ে মেসি এখন আউটফিল্ডের খেলোয়াড় হিসেবে এই সম্মান অর্জনকারী ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলার। যদিও গোলরক্ষকদের কথা ধরলে ২০১৭ সালে ৩৯ বছর ১০ মাস বয়সে চতুর্থ স্থান দখল করা ইতালিয়ান কিংবদন্তি জিয়ানলুইজি বুফনের রেকর্ডটি অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তবুও মাঠে দৌড়ে বেড়ানো একজন ফরোয়ার্ডের জন্য প্রায় চল্লিশ বছর বয়সে বিশ্বের সেরা পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া স্রেফ অবিশ্বাস্য এক অর্জন।
একনজরে ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের সেরা ১০
১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ / ইংল্যান্ড) (বিজয়ী)
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ / ফ্রান্স)
৩. লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা / স্পেন)
৪. রদ্রি (বার্সেলোনা / স্পেন)
৫. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি / আর্জেন্টিনা)
৬. কাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া (পিএসজি / জর্জিয়া)
৭. উসমান দেম্বেলে (পিএসজি / ফ্রান্স)
৮. আর্লিং হালান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি / নরওয়ে)
৯. মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ / ফ্রান্স)
১০. ফাবিয়ান রুইজ (পিএসজি / স্পেন)
টানা তৃতীয়বার সেরা তরুণ ইয়ামাল, বাকি পুরস্কার জিতলেন কারা