গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম

গাজীপুরে কওমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. ফারুক মিয়াকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর আসামি মো. হাবিবুর রহমানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ফারুক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার আমবাগ মধ্যপাড়া শুকুরের চালায় নিজ বাসার সামনে থেকে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৩ বছর। সে কালিয়াকৈর উপজেলার বান্নারা রাহে জান্নাত মাওয়া কওমি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক ও তার সহযোগীরা ওই ছাত্রীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। পরে ফারুকের বোনের বাড়িতে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা আছমা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ৯ জুন ফারুক ও হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। হাবিবুরের বিরুদ্ধে অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২০ জুন জামিন পাওয়ার পর থেকে ফারুক পলাতক রয়েছেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ফারুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। তবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৩০ ধারায় হাবিবুরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আবু তাহের নয়ন বলেন, ‌‌‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। বর্তমান বিচারক মামলা জট কমানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, এ রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক ফারজানা ফেরদৌস গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যোগ দেন। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জেলার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি যোগদানের সময় ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল প্রায় সাত হাজার। যোগদানের পর প্রায় এক মাসের মধ্যে তিনি ১২০টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ও বহুল আলোচিত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাদী ও বিবাদী পক্ষ আপসে আগ্রহী হলে আইনসম্মতভাবে সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিচারক।

বিপুলসংখ্যক মামলার জটের মধ্যে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়লে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমার পাশাপাশি সময় ও অর্থের ব্যয়ও কমবে। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত