সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে শওকত আলী খান পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করায় ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। গতকাল সোমবার, ২৬ অক্টোবর, তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাকে অভিনন্দন জানাতে ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করেন। এ সময় সোনালী ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শওকত আলী খান বলেন, কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। ব্যাংকের উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সবাইকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যাংকের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। এ ব্যাংকের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ জড়িত। তাই ব্যাংকের সুনাম রক্ষা, গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা এবং আর্থিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শওকত আলী খান আরও বলেন, শুধু পদ-পদবি দিয়ে নয়, কাজের দক্ষতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। ব্যাংকের লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এদিকে, অনুষ্ঠানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর বিষয়ে শওকত আলী খান একমত পোষণ করেন বলে কর্মকর্তারা জানান।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পদোন্নতিতে ২:১ ক্রাইটেরিয়া চালু, যুগ্ম জিম্মাদার (ক্যাশ) ও যুগ্ম জিম্মাদার (সাধারণ) পদে চাবির পয়েন্ট পুনর্বহাল, শাখা ব্যবস্থাপকদের জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট শুধু ফিডার পদে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্তত তিনটি পদোন্নতিতে কার্যকর করা এবং মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট পদ্ধতি বাতিল। এ ছাড়া শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য সমান পয়েন্ট পদ্ধতি চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় সোনালী ব্যাংক জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, শাখা সভাপতি শাহ জাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া এবং ডিজিএম সানোয়ার হোসেন, ডিজিএম আসলাম হোসেন ও এজিএম নকিব উদ্দীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শওকত আলী খানের পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, তার নেতৃত্বে ব্যাংকের কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়বে এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত হবে।