চরম আতঙ্কে খুলনাবাসী

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ এএম

খুলনা মহানগরী ও জেলাজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খুন, সশস্ত্র হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত শনিবার একই দিনে নগরের তিনটি স্থানে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে এর রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল মঙ্গলবার পুনরায় পৃথক গুলি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় যুবদলকর্মীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একের পর এক সশস্ত্র অপরাধের ঘটনায় খুলনার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জানা গেছে, খুলনার বটিয়াঘাটায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সোহেল শেখ (৩৬) নামে সাবেক এক ছাত্রদল নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। গত সোমবার রাত ১টায় বটিয়াঘাটা থানার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বড় কড়িয়া এলাকার গনি শেখের ছেলে এবং উপজেলার ৭ নম্বর আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে যুবদলের কর্মী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল শেখ মোটরসাইকেলে বসে থাকা অবস্থায় দুটি মোটরসাইকেলযোগে দুর্বৃত্তরা এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে সোহেলের ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। বটিয়াঘাটা থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় মহানগরীর নিরালার জনাকীর্ণ এলাকায় ১৭নং রোডে সালমান (২৩) নামের এক যুবককে গুলি করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আহত সালমান নিরালার ১৬ নম্বর রোডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি পেশায় ক্যামেল সিগারেট কোম্পানির একজন কর্মচারী। তবে এই ঘটনায় কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিন দুপুরে নগরীর নিরালা এলাকায় ১৭ নম্বর রোডে মোটরসাইকেলে এসে তিন যুবক সালমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর তার কাছে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সদর থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, কি কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে এটা ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে মহানগরীর সদর থানার পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার খাদিমুল মাদ্রাসার পাশের একটি গলিতে অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে রাসেল নামে এক রংমিস্ত্রি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাসেল লবণচরা থানাধীন পুটিমারি রেলব্রিজ এলাকার আবুল কালাম শেখের ছেলে।

মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এভাবে একের পর এক অস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রকাশ্য ছিনতাইয়ের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার এবং অপরাধীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত