ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে, যা কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আসনটি শূন্য হওয়ায় এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ভোটাররা।
মোট ভোটার ৫,১৬,১৩৮ জন (যার মধ্যে পুরুষ ২,৫৭,২১৯ জন, নারী ২,৫৮,৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন)। এ উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ২৮৭ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
এই উপ-নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীক নিয়ে চালিয়েছেন নিজ নিজ প্রচারণা।
ভোট সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। বুধবার সকালে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় চত্বর থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে নির্বাচনী সরঞ্জাম তুলে দেয়া হয়।
রির্টানিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রির্টানিং কর্মকর্তা। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে কাজ করবেন ১৯০ এসআরবি সদস্য, প্রায় আড়াই হাজার আনসারসহ পুলিশ সদস্যরাও।
উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের অনুষ্ঠান শেষে তিনি জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে ইসিকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার। বিএনপি সরকার জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্য। সিইসির নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এ হুঁশিয়ারি দেন জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বিজিবি ও আনসার বাহিনীর প্রায় ৫,৩০০ সদস্যের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।