৩ উইকেটে ২১৩ রান দিয়ে দিনের শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্যটা বড় সংগ্রহেরই ছিল। তবে উইকেটের মিছিলে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই বাকি ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউট নাজমুল হোসেন শান্তর দল। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৭২ রান।
দিনের প্রথম সেশনে মাত্র ৫৯ রান যোগ করল বাংলাদেশ। তার মধ্যেই হারিয়েছে ৭ উইকেট। জোমেল ওয়ারিক্যানের স্পিন ভেলকি আর শামার জোসেফদের পেস তোপে দারুণ এক শুরুর ভিতটা শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহে রূপ দিতে ব্যর্থ হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
অথচ প্রথম দিন শেষে মিরপুরে স্বস্তির সুবাস ছড়াচ্ছিল বাংলাদেশ। আগের দিন উইন্ডিজ পেসারদের প্রাথমিক ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নিয়েছিলেন সাদমান ইসলাম-তাওহীদ হৃদয়রা। দিনের শেষভাগে ক্রাম্পের শিকার হয়ে হৃদয় স্ট্রেচারে চড়ে মাঠ ছাড়ার আগে সাদমানের সঙ্গে গড়েছিলেন দুর্দান্ত এক জুটি। আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা যখন থেমেছিল, তখন ৭৪ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে শক্ত অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ।
ব্যক্তিগত ৯৯ রান নিয়ে দিন শেষ করা সাদমানের সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রানের সেই অপেক্ষা আর হৃদয়ের চোটের মতো ছোটোখাটো হতাশাগুলো ছাপিয়ে মিরপুরের মন্থর উইকেটে প্রথম দিনটি পুরোটাই নিজেদের অনুকূলে রেখেছিল স্বাগতিকেরা।
তবে দ্বিতীয় দিনের সকালে সেই স্বস্তি টিকল কেবল মোটে দুই ওভার। দিনের প্রথম ওভারে অভিষিক্ত জশুয়া বিশপের বল লেগে ঠেলে দিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন সাদমান। কিন্তু ঠিক পরের ওভারেই সেই বিশপের বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ১০৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
এরপর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। আগের দিন ক্রাম্পের শিকার হওয়া হৃদয় আজ ক্রিজে নামলেও কোনো রান যোগ না করেই বোল্ড হয়ে ফেরেন। মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান ও হাসান মাহমুদরাও উইন্ডিজ বোলারদের ঘূর্ণি ও গতির মুখে টিকতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়া দলকে শেষ পর্যন্ত টেনে তোলার চেষ্টা করেন লিটন দাস। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৮৮ বলে চার চারে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও অন্যপ্রান্তের ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ২৭২ রানেই থামতে হয় দলকে।
উইন্ডিজের হয়ে ওয়ারিক্যান মাত্র ৫৩ রান খরচায় শিকার করেছেন ৫টি উইকেট। এছাড়া শামার ও বিশপ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: (দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৭২ (৯৭.৪ ওভার) (সাদমান ১০৫, হৃদয় ৪২, লিটন ৩৪*, মুমিনুল ২৮, শান্ত ১৯; ওয়ারিক্যান ৫/৫৩, বিশপ ২/৬১, জোসেফ ২/৪১)।
দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় বলেই সেঞ্চুরি সাদমানের