গজারিয়ায় পৃথক সংঘর্ষ-হামলার ঘটনায়টেঁ টাবিদ্ধসহ আহত ৯

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পৃথক স্থানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৫ জন এবং সন্ধ্যায় বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া ফরাজীকান্দি গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজন আহত হন।

আহতরা হলেন টেংগারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য গিয়াস উদ্দিনের ছোট ভাই আতাউর (৪০), ভাতিজা বাইজিদ (১৪) ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সোহেল (৪১) ও অপরপক্ষের মুজাহিদ (১৭), অমিত (২০)। আহতদের মধ্যে আতাউর, সোহেল, মুজাহিদ ও অমিত ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীর রয়েছেন।

একই পরিবারের আহত চারজন হলেন উপজেলার ফরাজীকান্দি গ্রামের জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মনি বেগম, প্রবাসী ছেলে সুমন মিয়া, মেয়ে ইতি আক্তার ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লিলি আক্তার। 

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বড় ভাটেরচর গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপনের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়।

সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি পেশায় একজন আড়তদার। বুধবার রাতে আড়তের বেচাকেনা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে জাকির প্রধানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালান। এক পর্যায়ে তিনি স্বজনদের খবর দিলে তারা সেখানে গেলে তার ছোট ভাই আতাউর টেঁটাবিদ্ধ হন। আতাউরকে রক্ষা করতে তাঁর ছেলে বাইজিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সোহেল এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় সেলিম মিয়া গজারিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রিপন বলেন, তাকে জড়িয়ে দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি কয়েক দিন ধরে ঢাকায় রয়েছেন। একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একই এলাকার হাসান ও সাবেক ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিনের পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। হাসান পক্ষের অমিত ও মুজাহিদ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া ফরাজীকান্দি গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে জামাল উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ আলাউদ্দিনের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামাল উদ্দিনের স্ত্রী ক্যানসার আক্রান্ত মনি বেগম, ছেলে সুমন মিয়া, মেয়ে ইতি আক্তার ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লিলি আক্তার আহত হন। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম জানান, পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বড় ভাটেরচর গ্রাম থেকে শাহজালাল ও রিফাত নামের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত