চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-র উদ্যোগে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চিত্র নিয়ে ‘নির্যাতনের দাগ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় চাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন চাকসুর নির্বাহী সদস্য আদনান শরীফ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতাব্বর, যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইঞা, সহ-দপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান।
অনুষ্ঠানে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইঞা বলেন, “এই বইয়ের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চিত্র উঠে এসেছে। তখনকার ক্যাম্পাসের বিভিন্ন লোমহর্ষক ঘটনা এতে স্থান পেয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নির্মম নির্যাতন ও তাদের ত্রাসের রাজত্বের কাহিনী এই বইয়ে উঠে এসেছে।”
অনুষ্ঠানে চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক ও ‘নির্যাতনের দাগ’ বইয়ের সম্পাদক হারেস মাতাব্বর বলেন, “এই বইয়ে ১৮ জনের নির্যাতনের বর্ণনা উঠে এসেছে। এই বইয়ের মাধ্যমে আমরা চাই যেন ক্যাম্পাসে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসুক, কোনো শিক্ষার্থী যেন নির্যাতনের শিকার না হয়। বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা যেন সুষ্ঠু বিচার পায়। আমরা একটি সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক পরিবেশ সম্পন্ন ক্যাম্পাস চাই।”
অনুষ্ঠানে চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবীব বলেন, “বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের শুরু শেখ মুজিবুরের হাত ধরে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম ও খুনের মাধ্যমে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছিল। সেই ধারাবাহিকতা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মধ্যেও ছিল। এই ক্যাম্পাসে শহীদ মামুন ভাইকে গলা কেটে হত্যার মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আমরা একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ক্যাম্পাস চাই।”
এসময় চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “এই ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে দেয় নি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, দোকানে ফাও খাওয়া, হল দখল, হুমকি, রাহাজানির সংস্কৃতি ছাত্রলীগের হাত ধরে তৈরি হয়েছে। আমি একটা ঘটনা জানি, ২০২৩ সালে আমাদের একজন শিক্ষার্থী ভাইকে আটক করে রাতভর নির্যাতন করে। তাদের কারণে আমি চতুর্থ বর্ষে কোনো ক্লাস করতে পারিনি। মাস্টার্স কোর্সেও কোনো ক্লাস করতে পারিনি। আমার মতো এমন হাজারো শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে চবি ক্যাম্পাসে ৫ জন শিক্ষার্থীকে খুন করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবসহ এই ক্যাম্পাসে যারা ফ্যাসিবাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে, খুন হয়েছে, হত্যার শিকার হয়েছে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করি। অনেকে জুলাই বিপ্লবের পরে ক্যাম্পাসে এসে আক্ষেপ করেছে এই ক্যাম্পাসে তারা দীর্ঘ ২০ বছর পা রাখতে পারেননি। আমরা একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই, যাতে এই ক্যাম্পাসে আর ফ্যাসিবাদ না তৈরি হয়। চাকসুর ৭ম ক্যাবিনেট তাদের দায়িত্ব পালন শেষ করেছে, শীঘ্রই আমরা পরবর্তী চাকসু নির্বাচন চাই।”