ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ, আর্থিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ অর্থায়ন নিয়ে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সাথে আজ চীনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি)-এর একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেন। প্রকল্পের বিদ্যমান আর্থিক ঘাটতি মোকাবিলা, ঋণ বিতরণ পুনরায় শুরু এবং পুনঃঅর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও কাঠামোগত বিষয়গুলোর সমাধান হলে ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃঅর্থায়নের বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে প্রতিনিধিদলটি।
বৈঠকের শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও চীন দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় চীনা বিনিয়োগ এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করবে।
বৈঠকে আইসিবিসি ব্যাংকের গ্লোবাল ফাইন্যান্স বিভাগের অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতবিষয়ক প্রতিনিধি চার্লি ঝাও (Charley Zhao) অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও প্রকল্প মনিটরিং টিমের প্রধান জনাব আলতাফ হোসেন সেখ, প্রধান প্রকৌশলী জনাব মোঃ আবুল হোসেন, প্রকল্প পরিচালক জনাব মোঃ গোলাম মর্তুজা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (এফডিইই) কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রকল্পের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ এবং রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। প্রকল্পটিকে ঢাকার যানজট নিরসন ও নগরীর উত্তর-দক্ষিণমুখী যোগাযোগ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ সময় প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের জন্য সেতু বিভাগের সচিবকে ধন্যবাদ জানান চীনা ব্যাংক প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় প্রকল্পের আর্থিক ও নির্মাণ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে, প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শেয়ার মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে সৃষ্ট জটিলতা এবং এর প্রভাবে ঋণ বিতরণে তৈরি হওয়া স্থবিরতার বিষয়টি উঠে আসে। শেয়ার মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ঋণ বিতরণে বিঘ্ন ঘটে। পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের (এসআইএসি) সিদ্ধান্তের পর বিরোধ নিষ্পত্তির পথে অগ্রগতি হয়।
বৈঠকে ব্যাংক প্রতিনিধিরা জানান, বিদ্যমান আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর প্রকল্পে নতুন করে ঋণ বিতরণ ও পুনঃঅর্থায়নের সম্ভাবনা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তারা মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা রেনমিনবি (আরএমবি)-তে ঋণ দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে । প্রকল্পের আর্থিক কাঠামো নিয়ে আলোচনায় ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন, টাকার অবমূল্যায়ন এবং পূর্ববর্তী ঋণচুক্তির শর্তের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্যের বিষয়গুলো উঠে আসে।
বৈঠকে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। সেতু বিভাগের সচিব জানান, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ভবিষ্যতে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি, প্রকল্পের আওতায় আরও নতুন চারটি সংযোগের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে যেখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এবং রামপুরা-বনশ্রী-আফতাবনগর এলাকার সঙ্গে সংযোগের সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে। এসব সংযোগ বাস্তবায়িত হলে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের সংখ্যা ও টোল আয় আরও বাড়তে পারে। এতে প্রকল্পটির আর্থিক কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সক্ষমতা উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকল্পের অবশিষ্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর পূর্ণ প্রতিফলনে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন দ্রুত নিশ্চিত করার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও কাঠামোগত বিষয়গুলো সমাধান হলে ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃঅর্থায়ন নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে বলে প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে।