মহান আল্লাহ দ্বীনের মৌলিক প্রয়োজনীয় সব বিষয় কোরআনে বর্ণনা করেছেন। তিনি রাসুল (সা.)-কে সর্বপ্রথম যে নির্দেশ দিয়েছেন, তা হলো একমাত্র তার ইবাদত করা এবং তার একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা। আর সর্বপ্রথম যে বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন, তা হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি বলুন, আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমি যেন আল্লাহর ইবাদত করি এবং তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করি। আমি তারই দিকে আহ্বান করি এবং তারই কাছে আমার প্রত্যাবর্তন।’ (সুরা রাদ ৩৬)
রাসুল (সা.) সর্বপ্রথম যে কাজটি করেছিলেন, তা হলো মানুষকে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর পরিচয় জানানো এবং তার সর্বোত্তম নাম ও সর্বোচ্চ গুণাবলি সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। কারণ, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহকে চেনে না, তার গুণাবলি সম্পর্কে জানে না, তার পবিত্রতা ঘোষণা করে না, তাকে সব ধরনের দোষ-ত্রুটি ও মন্দ বিষয় থেকে পবিত্র মনে করে না এবং তার জন্য অনুপযুক্ত সব বিষয় থেকে তাকে মুক্ত ঘোষণা করে না, সে িযথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে না। তার প্রতি মহান রব সন্তুষ্ট হন না এবং সে জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারে না।
আল্লাহর ওপর ভরসা করা, তার প্রতি আকাক্সক্ষা পোষণ করা, তাকে ভয় করা, তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, তার কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং তার নামে মানত করা, এসবই একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত। এসবের কোনো কিছুতেই আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা যাবে না। এই সত্য বারবার ঘোষণা করা হয়েছে যে, সবকিছু একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। মহান আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করছি, যিনি পরম দয়ালু, সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। তিনিই এই দুটি সাক্ষ্য বিধিবদ্ধ করেছেন। ইসলাম ও ইমানের স্তম্ভ এই দুটি সাক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের প্রতিটি বিধিবিধানের ভিত্তিও এই দুটি সাক্ষ্যের ওপর স্থাপিত।
হে মুসলমানরা! আপনারা আল্লাহর জন্য এই দুটি সাক্ষ্য উচ্চারণের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। অতএব, এগুলোর অর্থ ও দাবি অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রেও ঐক্যবদ্ধ হোন। এই দুটি সাক্ষ্য অনুযায়ী আমলের প্রথম ধাপ হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আকিদা-বিশ্বাস গ্রহণ করা। মহান আল্লাহ তার সম্পর্কে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। (সুরা আহজাব ২১)
অতএব, মানবজাতির নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর আকিদা দৃঢ়ভাবে ধারণ করার মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বাসে ঐক্যবদ্ধ হোন। তার সাহাবি এবং তাদের অনুসরণকারী তাবেয়িদের আকিদা অনুসরণ করে আমলের ক্ষেত্রেও ঐক্যবদ্ধ হোন।
এই আকিদা সব ধরনের বেদয়াত থেকে মুক্তি লাভের পথ। চার মাজহাবের ফিকহবিদ ইমামরাও এই আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তারা আল্লাহর সব সুন্দর নাম ও সর্বোচ্চ গুণাবলি, তার সত্তাগত ও কর্মগত গুণাবলি স্বীকার করেছেন। তারা এসব গুণাবলির অস্তিত্ব ও বাস্তবতাকে স্বীকার করেছেন। তবে তারা আল্লাহর গুণাবলির ধরন বা প্রকৃতি নির্ধারণ করেননি। তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছেন, মানুষের বুদ্ধি দিয়ে এসব মহান গুণের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। সুতরাং, তাদের কাছে গুণাবলির স্বীকৃতি হলো সেগুলোর অস্তিত্ব ও বাস্তবতাকে স্বীকার করা। আর গুণাবলির ধরন নির্ধারণ না করার অর্থ হলো, মানুষের বুদ্ধি দিয়ে সেগুলোর প্রকৃতি উপলব্ধি করা যায় না বলে তা নির্ধারণ থেকে বিরত থাকা।
২৩ অক্টোবর শুক্রবার, মসজিদে নববিতে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন
মুফতি আতিকুর রহমান