এলপিজি

সরকার নির্ধারিত দাম ২ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ এএম

অবশেষে ব্যবসায়ীদের দাবিই মেনে নিচ্ছে সরকার। এলপিজি রূপান্তর, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়াতে যাচ্ছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নভেম্বর মাসের জন্য এলপিজির যে মূল্য নির্ধারণ হবে সেখানে এই তিন ধরনের চার্জ বৃদ্ধি করা হবে। গতকাল রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে এসব চার্জ বৃদ্ধির ওপর গণশুনানি করেছে বিইআরসি। দিনব্যাপী শুনানিতে ভোক্তাদের তরফ থেকে এলপিজির দাম বৃদ্ধিকে অন্যায্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে এলপিজি আমদানিকারক এবং বিতরণকারীরা তাদের লোকসানের কথা উল্লেখ করে দাম বৃদ্ধিকে যৌক্তিক হিসেবে দাবি করেন।

বিইআরসি গঠিত কারিগরি কমিটি এলপিজি অপারেটরদের বোতলজাতকরণ চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটরদের (পাইকারি বিক্রেতা) ও রিটেইলার (খুচরা বিক্রেতা) কমিশন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কমিটি তাদের যুক্তি হিসেবে বলছে, ২০২১ সালের পর কমিশন আর এ ধরনের চার্জ বাড়ায়নি। তবে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) বলছে, ২০২৩ সালে তাদের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে ডিস্ট্রিবিউটর এবং রিটেইলারদের চার্জ বাড়ানো হয়েছিল।

কমিটি বলছে, অক্টোবর মাসের আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং জাহাজভাড়া বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করলে ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার কথা বলছে কমিশনের এই কমিটি।

কিন্তু নভেম্বর মাসের জাহাজভাড়া ঠিক থাকলেও এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজারদর বেড়েছে। বাড়তি দাম ধরে হিসাব করলে ১২ কেজির বোতলের দাম হতে পারে ২ হাজার ৭২ টাকা। গত মাস অর্থাৎ অক্টোবরে সৌদি সিপি অনুযায়ী প্রোপেন এবং বিউটেনের দাম ছিল ৬৮০ এবং ৭৩০ ডলার প্রতি টন। এতে প্রোপেন এবং বিউটেনের গড় দাম ছিল টনপ্রতি ৭১২ ডলার। সৌদি সিপির একটি সম্ভাব্য ঘোষণার ধারণা পাওয়া গেছে, তাতে বলা হয়েছে নভেম্বরের জন্য এলপিজির দাম হবে টনপ্রতি ৭৬২ ডলার। প্রতি টনে ৪০ ডলার বেড়ে যেতে পারে। সৌদি আরামকো সাধারণত মাসের শেষ কর্মদিবসে পরবর্তী মাসের এলপিজির সৌদি সিপি ঘোষণা করে। সে ক্ষেত্রে আগামী শনিবার এই ঘোষণা আসতে পারে।

শুনানিতে এলপিজির ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং রিটেইলার চার্জ ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।

এদিকে ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান শুনানিতে বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা বিইআরসির দায়িত্ব। সেটি না হলে এই শুনানি সঠিক হবে না। সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বারবার ব্যবসায়ীদের কথায় এভাবে দাম বাড়াতে থাকলে গ্রাহকদের বিইআরসির ওপর কোনো আস্থা থাকবে না। তাদের উচিত কেন গ্রাহকরা ন্যায্য দামে এলপিজি পাচ্ছে না, সেটা খতিয়ে দেখা।

শুনানিতে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদসহ বিইআরসির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে এলপিজি অপারেটররা তাদের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

অর্থনীতি সমিতি দাম বৃদ্ধির এই শুনানি বয়কট করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত