তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে অনেক প্রশ্ন

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ এএম

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচিত বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরীর মরদেহ নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার করেছে তুরাগ নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। পরিবারের সঙ্গে বসবাস করা ২৮ বছর বয়সী এই সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। স্বজনদের অভিযোগ তাকে হত্যা করে মরদেহ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ এবং এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার করা মরদেহের সঙ্গে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, মরদেহে বাইরে থেকে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, তার বন্ধু ও স্থানীয় ছোটভাই দ্বীপকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে এবং তার মোবাইল লোকেশনসহ অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেলে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফ সাউরীকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উত্তরহীন প্রশ্নেই আটকে আছে মৃত্যুর রহস্য : একজন সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তার নিখোঁজ হওয়ার  পরের দিন নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের উদ্বেগ এবং হত্যার অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। একই সঙ্গে, দৃশ্যমান আঘাত না পাওয়া এবং ময়নাতদন্তের ফল প্রকাশ না হওয়ায় মৃত্যুর ধরন নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাহসিফের মৃত্যু দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকা- কোনটি ঘটেছে, তা নির্ধারণের জন্য  প্রামাণিক তদন্ত প্রতিবেদন দরকার। তার শেষ রাতের সঙ্গী, বাসা থেকে বের হওয়ার পরের গতিবিধি, মুঠোফোনের তথ্য এবং ময়নাতদন্তের ফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। পরিবারের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক আলামত সংরক্ষণই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাহসিফের মৃত্যু যদি হত্যাকা- হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে; আর অন্য কোনো কারণ থাকলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

স্বজনদের অভিযোগ পরিকল্পিত হত্যাকা- : গতকাল বৃহস্পতিবার তুরাগের উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের করবী ভবনে এবং মর্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তার বাবা কেএম এনায়েতুল করিম হেলাল। তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে দ্বীপকে ডেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে তাহসিফ নিখোঁজ ছিল। বুধবার সন্ধ্যার আগে উত্তরখান থানা থেকে জানানো হয়, তার মরদেহ পাওয়া গেছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকা-। ওই এলাকায় ও (সাউরী) কখনো যান না।  হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদন্ত হোক, সেই সঙ্গে হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

তিনি বলেন, ‘শৃঙ্খলাজনিত কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু বাহিনী থেকে কী ধরনের শৃঙ্খলা বা কোন শৃঙ্খলার কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, সেটা জানানো হয়নি। আমার ছেলে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর মাঝেমধ্যেই আশঙ্কার কথা জানাত। তবে কী ধরনের আশঙ্কা, এ সেটা কখনো বলেনি। কোনো হুমকি-ধমকির বিষয় বা কারও নামও কখনো বলেনি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত সউরীর এক চাচা জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকা-। এক মাস আগেও মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেলেও আহত হয়ে দীর্ঘদিন বাসায় বিশ্রামে ছিল। দ্বিতীয় দফায় তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়। তার কোনো শত্রু ছিল না। কিন্তু হত্যাকা-ের সঙ্গে বড় ধরনের একটি চক্র জড়িত। কিন্তু তারা কারা, সেটি জানা নেই। গভীর রাতে যে ভয়েস মেসেজটি সাউরীর মোবাইল থেকে এসেছিল, সেটি তার না। আমরা ভয়েস রেকর্ডিংটি যাচাই করে দেখেছি, সেটি সাউরীর ছিল না। ধারণা করছি, সাউরীকে আগেই হত্যা করা হয়েছে। তাকে যেন খোঁজাখুঁজি করা না হয়, তার জন্যই ওই ভয়েস মেসেজটি পাঠানো হয়।

তাহসিফ সাউরীর ছোট চাচা তাহসিনুল করীম সাউদি বলেন, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউরীর মোবাইল থেকে তার মাকে ভয়েস মেসেজ দিয়ে বলেছে ও বাসায় আসতেছে। তারপর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ ছিল।’

তাহসিফের চাচার দাবি, ‘সাউরী বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল ছিল। মোটরসাইকেলে করেই সে বাসা থেকে বের হয়। তার মানিব্যাগ ছিল। হত্যাকারীরা হাত ঘড়ি ও মোবাইল না নিলেও মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। মোবাইল নিয়ে গেলে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; সেই কারণেই হত্যার পর মোবাইল খুনিরা নেয়নি।

স্বজনদের দাবি, বিমানের সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরিকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। অথবা এমনভাবে হত্যা করা হয়েছে, যেন কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়া যায়।

রহস্যঘেরা দ্বীপ : বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপ অন্তত ৬ ঘণ্টা তার সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাহসিফের বাসায় যান তিনি এবং রাত ১২টার কিছু আগে-পরে সেখান থেকে বের হন। এ সময়ের মধ্যে দুজনে মিলে মোটরসাইকেল মেরামত এবং একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যমকে দ্বীপ বলেন, ‘তাহসিফ ভাই আমার চেয়ে কয়েক বছরের সিনিয়র। তারপরও আমরা ভালো বন্ধু। দুজনের মোটরসাইকেলের মডেল এক হওয়ায় বাইকে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ঠিক করার জন্য পরামর্শ নিতে বাসায় ডেকেছিলেন। আমি গিয়ে তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিই।’

তিনি বলেন, ‘বাসা থেকে বের হওয়ার আগে দুজনে একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে মোটরসাইকেল ঠিক করি। এরপর এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার শেষ করে তাহসিফকে তার বাসায় রেখে নিজের বাসা মোহাম্মদপুরের উদ্দেশে রওনা হই।’

দ্বীপ জানান, তাদের দুই পরিবারের মধ্যেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার কথা জানালেও তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে তার কাছে বিশেষ কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করেন দ্বীপ। তিনি তাহসিফের ময়নাতদন্তের সময় হাসপাতালেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান।

এদিকে নিখোঁজ হওয়ার দিন রাতে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, লিফট থেকে বের হয়ে ভবনের গ্যারেজে এক ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলান তাহসিফ। এরপর তারা পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। নিহতের পরিবার ওই ব্যক্তিকে দ্বীপ হিসেবে শনাক্ত করেছে। পরিবারের দাবি, দ্বীপের ডাকেই সেদিন বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। মাকে বলেছিলেন, নিচে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে ফিরবেন; কিন্তু আর ফেরেননি। পরের দিন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যাক্ষদর্শীদের বর্ণনা : তুরাগ নদের ঘাঁটে তাহসিফের মরদেহ ভাসতে দেখে নৌকার মাঝি মোহাম্মদ রাজিবসহ আরও কয়েকজন। তিনি জানান, বুধবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ডিউটি ছিল। ডিউটি শেষ করে টঙ্গী নদীবন্দর থেকে নৌকা দিয়ে রাজাবাড়ী ঘাটে আসার পথে নদীতে একটি মানুষের লাশ ভাসতে দেখি। তারপর ঘাট ইজারাদারকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানাই। ইজারাদার এসে লাশটি উদ্ধার করে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাটে নিয়ে যান।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে খেয়াঘাটের মাঝি খোকন মিয়া মরদেহটি উদ্ধারের সময়ের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘বুধবার হঠাৎ দেখি দুপুর ২টার দিকে টঙ্গীর পাড়ের কাছ দিয়ে একটি মরদেহ ভেসে আসছে। আশুলিয়ার দিক থেকে আসছিল সেটি। নদীর তীরে কিছু লোক লাশের পাশ ধরে ধরে হেঁটে আসছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই লাশটি আমার সামনে চলে আসে। খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে চারটি স্পিডবোট ও একটি নৌকা বাঁধা ছিল। সেখানে একটি স্পিডবোটে লাশটি আটকে যায়। তার কয়েকঘণ্টা পর পুলিশ আসে।’

গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তুরাগ নদীর তীরে স্পিডবোট রয়েছে। তার চারপাশে কচুরিপানার জট। নদীতে স্রোত রয়েছে। নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেখানে মানুষজনের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা যায়। আশপাশের কেউ বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।

উত্তরখান থানার এসআই সানোয়ার বলেন, গতকালই মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা যেহেতু দুই থানার মোহনা, তাই আমরাও এখানে অবস্থান করছি।

সুরতহালে যা পাওয়া গেল : সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে উদ্ধারকৃত মরাদেহ শনাক্ত করেন নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান। মরদেহের মাথার চুল কালো, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক,  মুখম-ল গোলাকার। মুখ ও চোখ বন্ধ। নাক থেকে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ। হাত দুটি মাথার সামনা সামনি ছিল। হাতের মুষ্টি খোলা পেয়েছেন সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা। এ ছাড়া তিনি সুরতহালে উল্লেখ করেন, বুক, পেট ও পিঠ স্বাভাবিক। পা দুটি স্বাভাবিক। মৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত ব্যক্তির পেট ফোলা দেখা গেছে। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ও দেখানোর মতে তিনি সাউরীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে তৈরি করেন।

ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে প্রকৃত কারণ পুলিশ : নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।

ঢাকা অঞ্চল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কিছু নেই, যেটি দেখে মৃত্যুর কারণ বলা যায়। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও তদন্তে বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

ফেসবুকে সহকর্মী ও বোনের পোস্ট ঘিরে আলোচনা : তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের পর এ মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকা- দাবি করে ফেসবুকে তাহসিফের খালাতো বোন মোশফেকা জাহান লেখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাহসিফকে দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে। অবসরে পাঠানোর পরও গোয়েন্দারা তাকে নিয়মিত অনুসরণ করতেন বলে তাহসিফ তাকে জানিয়েছিলেন।

তিনি লেখেন ‘আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে, কী দোষ ছিল তার? হাসিনার পালানো ভিডিও শেয়ার করা? যেটি তিনি নিজেও ধারণ করেননি, নাগরিক হিসেবে শেয়ার করেছেন। তার কলিগদের কেউ করেছেন। অবসরে দেওয়া হয়েছে, দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার পরও তাদের শান্তি হয়নি। মেরেই ফেলতে হলো তাকে। ক্ষোভ জানিয়ে মোশফেকা জাহান প্রশ্ন তোলেন, দেশপ্রেমিক হওয়াটাই কি তার ভাইয়ের এমন পরিণতির কারণ? পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সুস্থ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে তার খালার রাজপথে থাকার প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, তার খালার অপরাধটা কী ছিল?

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় তারই সহপাঠী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটা প্রমাণিত না হলে রাজনৈতিক কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধরে নেবেন।

জানা গেছে, তাহসিফের সহপাঠী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম। তারা আদমজী কলেজে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন ও পরে ৭৯ বিএমএ ইক্যুইভ্যালেন্ট কোর্সমেট হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে কোর্স করেন।

ওই পোস্টে ইনজিমাম বলেন, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরী। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সঙ্গে জড়িত এই ছেলেটার লাশ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে এসেছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কাল বাদ আসর তার জানাজা। উত্তরায়।

সব বিষয়ে জেনে তারপর মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : গতকাল রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও এসআইদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমরা সব বিষয়ে জেনে তারপর মন্তব্য করব।

বিমান কর্মকর্তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতের গভীর উদ্বেগ : বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার জবাবদিহি দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত