২৯তম বিসিএসের তিন উপসচিব ওএসডি

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ এএম

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ২৯তম ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া তিন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়ে পরে পদোন্নতি ও পদায়ন পেয়ে সরকারি চাকরিতে থাকার অভিযোগ রয়েছে।

তারা হলেন, জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত বুধবার রাতে ওএসডি হওয়া ওই তিন কর্মকর্তার বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ওই তিন কর্মকর্তার প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে, গত ২১ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২৯তম বিসিএসে নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগে ২১ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ছয়জন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জড়িত ১৫ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। ওএসডি হওয়া তিন কর্মকর্তা উক্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন।

নিয়োগপ্রাপ্ত অপর তিন কর্মকর্তা হলেন, হালিমা খাতুন (পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার), মো. মিল্টন আলী বিশ্বাস (সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার) ও মো. খোরশেদ আলম (পুলিশ ক্যাডার)।

সরকারি নথিতে তারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেলেও দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিসিএস পরীক্ষার সময় তাদের কেউই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেননি। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে দুদক।

গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় আবেদন না করেও ২৯তম বিসিএসে নিয়োগপ্রাপ্ত বিভিন্ন ক্যাডারে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। চিঠি দেওয়ার ছয় মাস পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তিনজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল। বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানা যায়নি।

দুদকের মামলায় আসামি মোট ২১ জন। তার মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত ছয় কর্মকর্তা ছাড়াও যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। দুদকের মামলা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ও সদস্য, সাবেক সচিব, সাবেক পরীক্ষানিয়ন্ত্রক এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন সাবেক কর্মকর্তার নাম এসেছে।

ওই তালিকায় আছেন সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যান এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী, সদস্য অধ্যাপক সুরাইয়া বেগম, মির্জা শামসুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবিদুর রেজা খান, এহসান শামীম, অধ্যাপক রাশিদা বেগম, মোহাম্মদ হোসেন সেরনিয়াবাত, অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী, সৈয়দ হাসিনুর রহমান, ইকরাম আহমেদ, অধ্যাপক ডা. ফরিদা আদিব খানম, মুহম্মদ লিয়াকত আলী খান, চৌধুরী মো. বাবুল হাসান, আ. ই. ম. নেছার উদ্দিন এবং মো. লোকমান আহমদ।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২৯তম বিসিএসে নিয়োগের প্রথম গেজেট হয় ২০১১ সালের ১০ জুলাই। তখন প্রশাসন ক্যাডারে ১৮৪ জনের নামে গেজেট হয়। ওই সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়ায় ১৪টি পদ ফাঁকা ছিল। প্রথম গেজেটের ১৩ মাস পর ওএসডি হওয়া এই তিন কর্মকর্তাসহ অন্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত