যুক্তরাজ্যের সাবেক জনপ্রিয় কৌতুকশিল্পী ও অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ছয় নারীর সঙ্গে ঘটা বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই তারকা বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি করে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন এবং একটি অশালীন আচরণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে একটি অশালীন নিপীড়নের অভিযোগ পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বিচারক বাতিল করে সেটিকে ‘চেষ্টার’ অভিযোগে রূপান্তর করেন।
সম্প্রতিক প্রসিকিউশনের দাবি: সরকারি কৌঁসুলি রিয়েল কার্মি-জোন্স আদালতে রাসেল ব্র্যান্ডকে একজন ‘হিসাবি ও প্রতারণামূলক যৌন শিকারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যিনি নিজের খ্যাতির অপব্যবহার করে নারীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন।
এসময় রাসেল ব্র্যান্ড আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, যৌবনে তিনি যৌনতায় আচ্ছন্ন থাকলেও কোনো নারীর সঙ্গে অসম্মতিতে কিছু করেননি। আদালতে তিনি বলেন, ‘যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মতি একটি মৌলিক বিষয় এবং এটি যৌনতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে রাসেল ব্র্যান্ডের পক্ষে তার স্ত্রী লরা ব্র্যান্ড আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে স্বামীকে ‘দয়ালু ও চমৎকার বাবা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ব্র্যান্ড অবশ্য আদালতে আক্ষেপ করে বলেছেন, ২০২৩ সালে সংবাদমাধ্যমে (চ্যানেল ফোর ও দ্য সানডে টাইমস) এই অভিযোগগুলো আসার পর তার ক্যারিয়ার ও জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ভয়ে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে কোনো পরিচিত ব্যক্তি বা সহকর্মী এগিয়ে আসেননি।
মামলার উভয় পক্ষের যুক্তি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালত সূত্র অনুযায়ী আগামী সপ্তাহের শুরুতেই (মঙ্গলবার) জুরি সদস্যরা এই মামলার চূড়ান্ত রায় বা রায় ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন।
সূত্র: বিবিসি/দ্য গার্ডিয়ান