স্বর্ণ ও রুপার দামে হঠাৎ বড় পতন কেন?

‘এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) খাতের শেয়ার দর বৃদ্ধির যে প্রত্যাশা ছিল, তাতে চিড় ধরায় বিনিয়োগকারীরা মার্জিন কল মেটাতে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।’

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ এএম

প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতনের ধাক্কা এসে পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমে এক বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তীব্র দরপতনের মুখে পড়েছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৮৮০ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমে আসে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর এটিই স্বর্ণের সর্বনিম্ন দাম। অপরদিকে মার্কিন ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩.৩ শতাংশ কমে ৩,৮৯৮.৯০ ডলারে স্থির হয়। বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারে পৌঁছেছিল। এরপর থেকে দাম কমেছে ৩০ শতাংশ। দীর্ঘ সময় সুদের হার বেশি থাকার আশঙ্কা এবং এশিয়ার বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম যখনই প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নামে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদা বাড়তে শুরু করে। 

একই সময়ে রুপার দাম ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৯ ডলারে দাঁড়ায়। গত ১১ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো রুপার দাম ৫০ ডলারের নিচে নেমেছে। এ ছাড়া প্যালাডিয়ামের দামও প্রতি আউন্স ১ হাজার ডলারের নিচে চলে গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) খাতের শেয়ার দর বৃদ্ধির যে প্রত্যাশা ছিল, তাতে চিড় ধরায় বিনিয়োগকারীরা মার্জিন কল মেটাতে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের আপেক্ষিক শক্তি সূচক (আরএসআই) গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গভীরভাবে 'ওভারসোল্ড' বা অতিবিক্রীত অঞ্চলে প্রবেশ করেছে, যা পতনের তীব্রতা নির্দেশ করে।

স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, ‘পরিস্থিতি যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামলে ধাতু খাতেও এর প্রভাব পড়ে। এআই খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধির মূল ভিত্তি ছিল ভবিষ্যৎ মুনাফার প্রত্যাশা। কিন্তু এখন সেই ভিত্তিতেই ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে।’

কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক নোটে বলেছেন, শুক্রবার প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের বড় দরপতনের কারণে স্বর্ণসহ অন্যান্য নিরাপদ সম্পদ বাধ্য হয়ে বিক্রি করার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর ফলে মার্জিন কলের মতো পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম আবার ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো সাদা মূল্যবান ধাতুগুলো স্বর্ণের মতো সুবিধা পাচ্ছে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদা স্বর্ণের দামকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু এই তিন ধাতুর ক্ষেত্রে এ ধরনের চাহিদা নেই।

তাই ওং বলেন, ‘সাদা ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই দরপতন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর মতো আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি দীর্ঘস্থায়ী ও অব্যাহত রয়েছে।’

শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে রুপার বাজার ক্রমেই বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছিল। তবে এইচএসবিসি জানিয়েছে, শিল্প ও গহনা খাতে রুপার চাহিদা কমছে। ব্যাংকটি আশা করছে, ২০২৭ সালে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম হবে ৬৪ ডলার। চলতি বছরের জন্য তাদের গড় মূল্য পূর্বাভাস ছিল ৭১ ডলার।

ঐতিহাসিক হিসাবেও স্বর্ণের তুলনায় রুপার দাম আরও কমার সুযোগ রয়েছে। পরামর্শক সংস্থা মেটালস ফোকাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্বর্ণ ও রুপার দামের অনুপাতের গড় ছিল ৮২।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত