আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ: ২৫ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

গত বৃহস্পতিবারও (২৯ অক্টোবর) মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন।

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও কালোতালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে আশুলিয়া ও মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সবশেষ, সাভারের আশুলিয়ায় অন্তত ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার নাঈম নিটওয়ারের শ্রমিকেরা কারখানায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাঈম নিটওয়ারের শ্রমিকেরা আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকদেরও কাজে যোগ না দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন কারখানাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

একই দাবিতে কাঠগড়া, নিশ্চিন্তপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরাও রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে যোগ দেন। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বাইপাইল থেকে আবদুল্লাহপুর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দুপুর ১২টার দিকে ধাওয়া দিয়ে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে সড়ক থেকে শ্রমিকদের হটিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালান।
 
এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ৪ থেকে ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর জেরে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ২৫টি কারখানায় আজকের মতো ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে একই দিনে রাজধানীর মিরপুরেও পোশাকশ্রমিকেরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, সকাল পৌনে ১১টার দিক থেকে মিরপুরের কয়েকটি এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকরা। আশপাশের বিভিন্ন কারখানা থেকে শত শত শ্রমিক সড়কে নেমে আসায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ তাদের ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ এবং প্রশিকা মোড় সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট ও যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
 
গত বৃহস্পতিবারও (২৯ অক্টোবর) মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকেরা একই দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত