সাজেকে ফের গোলাগুলি জনমনে আতঙ্ক আজ অবরোধ শিথিল

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকের দুর্গম পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র কর্মীদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, দুগ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়েছি। তবে কাদের মধ্যে এই গোলাগুলি হয়েছে, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ১০ দিনের টানা অবরোধের পর আজ রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য সড়ক অবরোধ শিথিল করেছেন অবরোধকারীরা। এলাকার সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে আগামীকাল সোমবার থেকে আগের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।

ইউপিডিএফের দুই ছায়া সংগঠন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেকে চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি। গতকাল শুক্রবার টানা ১০ম দিনের অবরোধ পালিত হয়েছে।

অবরোধকারীদের অভিযোগ, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছে। এতে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অবরোধকারী দুটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে বৈঠকে বসেছিলেন রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। সংলাপে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটির বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি নেতৃবৃন্দ। ফলে সাজেকের সংকটও কাটেনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত