ভিডিটি পুরনো, সশস্ত্র ব্যক্তিরা রাখাইনের আরাকান আর্মির: বিজিবি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ভিডিও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার; সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বছরের বেশি সময় আগের একটি ভিডিও নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। ভিডিওতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যদের ইউপিডিএফের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিজিবির ভূমিকা নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিজিবির ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ‘হঠাৎ করেই বিজিবির মুখোমুখি ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও.....’ শিরোনামে একটি পুরোনো ভিডিও নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে। এতে ঘটনাটিকে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এবং বিজিবির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি আংশিক ও বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, ভিডিওতে দেখানো ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের থানচি উপজেলার বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় ঘটেছিল। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না; তাঁরা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য।

বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর কাছ দিয়ে আরাকান আর্মির একটি দল শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি জানার পর বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে ওই দলকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। বিজিবির দাবি, এ ঘটনায় তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে।

বিজিবি আরও জানায়, ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজ (https://www.facebook.com/reel/1774351503968017) ও দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে (https://youtube.com/shorts/CrkXBb9AJK0) প্রচারিত হয়েছিল।

এক বছরের বেশি সময় আগের ঘটনাকে সাম্প্রতিক হিসেবে উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় পরিবর্তন করে প্রচারের কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে এভাবে ভিডিও প্রচার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিপন্থী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুরোনো ও খণ্ডিত ভিডিও নতুন করে প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, বিজিবির প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো সুনির্দিষ্ট স্বার্থ বা উদ্দেশ্য থেকে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে বিজিবি জানায়, দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল ও অস্থিতিশীল। বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্য ও আশপাশের এলাকায় মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতি সীমিত। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবাধীন। পাশাপাশি খুমি ও অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিজিবির ভাষ্য, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো স্বতন্ত্র পোশাক না থাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া এবং সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কাম্য নয়। ভবিষ্যতেও যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত