সাজেকে 'অনির্দিষ্টকালের অবরোধ' শিথিল আজ

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি আজ রবিবার (১ নভেম্বর) একদিনের জন্য শিথিল করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব 'কঠিন চীবর দান' উদ্‌যাপনের সুযোগ করে দিতে এই বিশেষ শিথিলতার ঘোষণা দিয়েছে অবরোধকারীরা। 

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘ আন্দোলন ও যাতায়াত সংকটের মাঝে এই সাময়িক বিরতি স্থানীয় জনজীবন, সাধারণ মানুষ এবং পর্যটন খাতের সাথে জড়িতদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

অবরোধ আহ্বানকারী সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, সাধারণ জনগণের মৌলিক প্রয়োজন এবং ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ ১ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টার জন্য সাজেক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল ও অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই শিথিলতা কেবল নির্দিষ্ট এই একদিনের জন্যই প্রযোজ্য হবে। রবিবারের পর থেকে পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি আবারও আগের নিয়মে কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

এদিকে অবরোধের ভেতরেই শনিবার সাজেকের দুর্গম পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পাহাড়ি গ্রুপ ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে গোলাগুলিতে জনমনে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি অবরোধকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের প্রথম দফা গোলাগুলি হয়। 

বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। ধারাবাহিক এই অবরোধের কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক রুটে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকবাহী গাড়ি ও সব ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সাজেকের সাথে জেলা সদর ও অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে একদিকে যেমন পর্যটন ব্যবসা চরম ধস ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য, শাকসবজি এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সাজেক উপত্যকা দেশের অন্যতম প্রধান ও লাভজনক পর্যটন স্পট হওয়ায় এখানকার অর্থনীতি অনেকাংশেই পর্যটকদের আগমনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু লাগাতার এই অবরোধের ফলে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ এবং জিপ গাড়ির চালক ও মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পাহাড়ের স্থানীয় অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা নেমে এসেছে, তা কাটিয়ে উঠতে দ্রুত স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে আজকের এই ১২ ঘণ্টার শিথিলতার সুযোগে সাজেকে আটকে থাকা অনেক পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী নিরাপদে গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে প্রয়োজনীয় রসদ ও ওষুধপত্র সংগ্রহের কাজও সম্পন্ন করা হচ্ছে। 

তবে রবিবারের এই সাময়িক শিথিলতা শেষ হওয়ার পর সোমবার থেকে পুনরায় পূর্বের মতো অবরোধ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকায় পাহাড়ের সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা এখনো কাটেনি। পর্যটন শিল্প ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত