ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

কারও আনন্দ কারও বিষনণতা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ এএম

একই ফল প্রকাশ, অথচ অনুভূতি ভিন্ন। কারও মুখে সাফল্যের হাসি, কারও চোখে আনন্দাশ্রু; আবার প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে কারও মুখ মলিন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, সন্তানকে নিয়ে অভিভাবকদের সুখীমুখ আর কাক্সিক্ষত ফল না পাওয়ায় চাপা হতাশা সব মিলিয়ে এইচএসসির ফল প্রকাশের পর গতকাল শনিবার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে এমন মিশ্র অনুভূতি।

ফল প্রকাশের পর অনলাইনে দেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে সকাল সকাল ভিড় করেন প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিহা তাবাসসুম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, সারা রাত ঘুমাইনি। রসায়ন নিয়ে ভয় ছিল। জিপিএ-৫ এসেছে। রেজাল্ট দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না। জিপিএ-৫ পেয়েছেন শিক্ষার্থী সোহা তাসনিম। মেয়েকে নিয়ে কলেজে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তার মা তাহমিদা হাসান বলেন, ও অনেক পরিশ্রম করেছে। ওর এই কষ্টের কারণেই আজকে সাফল্য এসেছে।

তবে সবার মুখে হাসি ছিল না। বাবাকে নিয়ে কলেজে এসেছিলেন মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবা আজহিন ইভা। প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে চোখ মুছতে মুছতে ইভা বলেন, যে ফল আশা করেছিলাম, তা না পাওয়ায় নিজের ওপরই খারাপ লাগছে। এ সময় পাশে থেকে সাহস জোগান ইভার বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।

সরেজমিন দেখা যায়, ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত ফল জানার সুযোগ ও বৃষ্টির কারণে এবার ভিকারুননিসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল অন্য বছরের তুলনায় কম। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও অনেকে এসেছেন সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কেউ কেউ আবার কলেজে এসেছেন সার্ভারে ফল না পেয়ে। সকাল ৯টার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকেই সহপাঠীদের দেখে একে-অন্যের দিকে ছুটে যান, জড়িয়ে ধরেন, জানতে চান একে-অপরের ফল। তখনো নিজের ফল না জানা অনেককে এসএমএসের জন্য উদ্বিগ্নভাবে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।  অন্যদিকে কাক্সিক্ষত ফল পেয়ে উচ্ছ্বসিতরা ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে উদযাপন করেন সাফল্যের মুহূর্ত। ঢোল-তবলা ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রের তালে, ‘ভিকে, ভিকে’ (ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ) সেøাগানে মুখর হয়ে ওঠে অডিটরিয়ামসহ পুরো ক্যাম্পাস। অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিশ্রমের গল্পের পাশাপাশি ভাগাভাগি করেন নিজেদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি।

এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৪ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে ছিল ৯৭.৫৬ শতাংশ। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১৬ জন শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির ২ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছেন ২ হাজার ২৩৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৩.৮৮ শতাংশ, মানবিকে ৯৪.১৬ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯৫.৯৭ শতাংশ।

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, করোনার সময় থেকেই শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজবিমুখ হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ক্লাস না করে বাসায় বসে নিজে নিজে পড়া কিংবা কোচিংমুখী হওয়ার প্রভাব ফলাফলেও পড়েছে।  ফলাফলের ঘাটতি কাভারআপ করার মূল দায়িত্ব আমার নিজের কাঁধেই নিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের পুনরায় ক্লাসমুখী করতে এবং পড়ার আগ্রহ ফেরাতে ক্রীড়া ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত