ইয়ামাল-রাফিনহার জোড়ায় বার্সার আধডজন

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০২ এএম

এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ এবং এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হার। টানা দুই হারের ধাক্কায় থমকে গিয়েছিল বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেবল তিন ম্যাচে তিনটির কম গোল দিয়েছে এমন একটি আক্রমণাত্মক দলও গত সপ্তাহে নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল। 

তবে কঠিন সেই ধাক্কা সামলে ক্লাবের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এবং লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করতে ঘরের মাঠে আলাভেসের বিপক্ষে একটি বড় জয়ের খুব প্রয়োজন ছিল হান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের। ন্যু ক্যাম্পে ঠিক সেই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনই দেখাল বার্সেলোনা। ইয়ামাল ও রাফিনহার জোড়া গোল এবং ফেরমিন লোপেজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আলাভেসকে ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে লিগ টেবিলের চূড়ায় অবস্থান শক্ত করল কাতালানরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে আক্রমণের বন্যা ভাসিয়ে দেয় বার্সেলোনা। অষ্টম মিনিটেই গোলউৎসবের সূচনা হয়; পেদ্রির ডিফেন্স চেরা পাসের সুবাদে বাঁ দিক থেকে লোপেজের কাটব্যাক ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন রাফিনহা। ২৩ মিনিটে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন ফেরমিন। ইয়ামালের বাড়ানো বল ধরে বেশ কঠিন কোণ থেকে বল জালে জড়ান তিনি। 

৪১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন রাফিনহা; এবারও মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে অ্যাসিস্টের ভূমিকা পালন করেন সেই ফেরমিন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে চমৎকার এক দলীয় পাসিং ফুটবলের সমাপ্তি টেনে ২০ গজ দূর থেকে নিচু শটে চতুর্থ গোলটি করেন ইয়ামাল।

বিরতির পর বার্সার গোলবন্যা থামেনি। ৬৪ মিনিটে বদলি নেমে গ্যাব্রিয়েল জেসুস দারুণ এক থ্রু পাস বাড়ান ইয়ামালের উদ্দেশ্যে। আলাভেসের গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে দারুণ এক ‘ডিঙ্ক’ শটে বল জালে পাঠিয়ে ম্যাচে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ১৯ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক। ৮১ মিনিটে রদ্রির দূরপাল্লার বাড়িয়ে দেওয়া নিখুঁত পাসের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যবধান ৬-০ করেন অ্যান্থনি গর্ডন। 

শেষ দিকে রদ্রির ব্যক্তিগত ভুলের সুযোগ নিয়ে আলাভেসের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন মারিয়ানো দিয়াজ। এই ম্যাচে ইনজুরি সমস্যার কারণে রক্ষণভাগে জরুরি ভিত্তিতে মাঝমাঠের তরুণ ব্রায়ান ফারিনাসকে রাইট-ব্যাকে অভিষেক করান ফ্লিক, যা লা মাসিয়ার এই গ্র্যাজুয়েটের জন্য ছিল এক অসাধারণ পারফরম্যান্সের রাত।

টানা দুই হারের পর এমন বিধ্বংসী জয় এবং দলের দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বার্সা কোচ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “টানা দুই পরাজয়ের পর আমি ঠিক এমন একটি প্রতিক্রিয়াই দেখতে চেয়েছিলাম। আমার দল যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা সত্যিই খুব ভালো এবং সঠিক পথের এক বার্তা।”

রক্ষণভাগের একের পর এক ইনজুরি সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়ে ফ্লিক আরও যোগ করেন, “আন্তর্জাতিক বিরতির আগে আমাদের সামনের দুটি ম্যাচ যেকোনো মূল্যে টিকিয়ে রাখতে (জিততে) হবে। আমাদের চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ঠিক কে কবে নাগাদ ফিরবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।”

এই জয়ে ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে বার্সেলোনা, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি। অন্যদিকে দিনের অন্য ম্যাচে লেভান্তেকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে স্প্যানিশ ম্যানেজার হিসেবে লুইস আরাগোনাসের ৩৪৪ জয়ের রেকর্ড ছুঁয়েছেন আতলেতিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। আগামী ৮ নভেম্বর লা লিগার পরবর্তী মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই আতলেতিকো মাদ্রিদেরই মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত