২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের পর পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে এলাকা ছাড়তে হয়। তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অন্যতম সাক্ষী ছিলেন।
এ সময় পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে তার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আর নিজ এলাকায় ফিরতে পারেননি তিনি। এ সময় তার ছেলে, মেয়ে ও এক মেয়ের স্বামী মারা গেলেও তাদের শেষবারের মতো দেখতে পারেননি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর্র) রাতে চিথলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে গেলে তার মেয়ে শিমু এসব কথা জানান। তিনি বলেন, হুমকি, ভয় ও আতঙ্কের কারণে পরিবারের অনেক সদস্যকেও এলাকা ছাড়তে হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী আত্মগোপনে চলে যান। টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে গত ২৪ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর পর পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলে জামায়াত-সমর্থিত কর্মীরা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ লাইনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ পরিস্থিতিতে মানিক পশারীর মেয়ে শিমু ও সৎ বোন হেনা বেগম এলাকায় থাকলেও রাতে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।
শিমু জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এরপর তিনি বাবা-মা, বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে গোপালগঞ্জে চলে যান। প্রায় তিন মাস পর থেকে তিনি বাড়িতে আসা শুরু করেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে এসে একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন, পরে আবার গোপালগঞ্জে ফিরে যেতেন।
তিনি বলেন, তাদের বোন পারুল আক্তার প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। একমাত্র ভাই আসাদুল পশারী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় পাঁচ মাস আগে মারা যান। এ ছাড়া পারুল আক্তারের স্বামী লাল মিয়া খলিফাও ছয়-সাত মাস আগে মারা যান।
শিমু বলেন, তখন আমাদের বাবা গোপালগঞ্জে আত্মগোপনে ছিলেন। তার ছেলে-মেয়ে, জামাই-তিনজন মারা গেলেও তিনি বাড়ি আসতে পারেননি।
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার বলেন, মানিক পশারীর পরিবারের সদস্যদের শঙ্কার বিষয়ে কেউ মৌখিক বা লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ নিয়মিত ওই এলাকায় টহল দিচ্ছে।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়। ওই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। পরে ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাঈদী।
মধ্যরাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের দাফন, তাসনিম জারার ক্ষোভ