গ্রীষ্মে সোলার দিয়ে কমতে পারে লোডশেডিং

গত আট মাস ধরে সরকার সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে। এ খাতে দেশের মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

গ্রীষ্মে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎকে বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ লক্ষ্য সামনে রেখে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এর বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, আশা করি আগামী গ্রীষ্মে সোলার দিয়ে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কম দিতে পারব। সোলারকে এগিয়ে নিতে আমরা নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, গত আট মাস ধরে সরকার সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে। এ খাতে দেশের মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সে জন্যই এ এক্সপোর আয়োজন। সরকারিভাবে এ ধরনের আয়োজন দেশে এটাই প্রথম। প্রধানমন্ত্রীও এতে উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, উনি নিজেও অফ গ্রিড হয়ে গেছেন। তিনি নিজের বাসায় আর গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না।

জ্বালানির দাম বাড়তে বাড়তে ৩২ ডলারে পৌঁছেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সৌরবিদ্যুতের দিকে যেতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ খাতের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে মানুষের ভোগান্তি এড়ানোই এসব পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে সেই বিদ্যুৎ যুক্ত করার সক্ষমতা ও প্রস্তুতিও রয়েছে।

এদিকে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে আগামী ৩ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে এ আয়োজন করছে। এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘প্রতিটি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।  

এক্সপোতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট এনার্জি প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে অংশ নেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প উন্নয়নকারী ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ ইনভেস্টর জোন।

সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকার ইতোমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার বিশেষ প্রকল্পও ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে নিজস্ব বিনিয়োগ ছাড়াই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সৌরপ্যানেল স্থাপনে অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) মডেল উৎসাহিত করছে সরকার। সৌরবিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে সৌরবিদ্যুৎ খাতের নীতিগত উন্নয়ন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে চারটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত