৮ বছর পর চা-শ্রমিক নির্বাচন

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

দীর্ঘ আট বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের চা-বাগানগুলোতে কর্মরত লক্ষাধিক শ্রমিককের। নানা কারণে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (বাছাশ্রই) (রেজি. নং-বি-৭৭) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে অনেকটা স্থবির ভাব বিরাজ করছিল ট্রেড ইউনিয়নটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ জুন দেশের চা-শ্রমিকদের একমাত্র এ ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী তিন বছর অন্তর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু উচ্চ আদালতে মামলাসহ নানা কারণে ২০২১ ও ২০২৪ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইউনিয়নের নেতা ও সাধারণ চা-শ্রমিকরা শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার আবেদন করার পর চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুছ সামাদ আল আজাদকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন গঠনের পরই দেশের বিভিন্ন জেলার চা-বাগানগুলোতে উৎসবের আমেজ দেখা দেয়। বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ, ভ্যালি কার্যকরী পরিষদ ও পঞ্চায়েত কমিটি প্রাথমিক কার্যকরী পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা চষে বেড়ানো শুরু করেন নির্বাচনী ময়দান। চা-বাগানগুলোতে বইতে শুরু করে নির্বাচনী উৎসবমুখর পরিবেশ। এরই মধ্যে গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম অধিদপ্তরের অধীন গঠিত ‘বাচাশ্রই’ নির্বাচন কমিশন, ২০২৬’র পক্ষ থেকে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

মো. আব্দুছ সামাদ স্বাক্ষরিত নির্বাচনী তফসিলে জানানো হয়, আগামী ২৮ নভেম্বর শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে দেশের পাঁচটি জেলার ২০টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার) কার্যালয় থেকে ৫ ও ৬ নভেম্বর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। ৫, ৬ ও ৯ নভেম্বর প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১০ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং ১১ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার) কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। ১১ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে প্যানেলভিত্তিক খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। ১২ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাতিলকৃত মনোনয়নপত্রের ওপর আপিল ও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ নভেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে। ১৪ নভেম্বর বেলা ১১টায় প্যানেলভিত্তিক চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। একই দিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা এবং ১৫ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্যানেলভিত্তিক প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। ২৮ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতিটি চা-বাগানের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ সদস্যের পঞ্চায়েত কমিটি; লস্করপুর, বালিশিরা, মনু-ধলাই, লংলা, জুড়ী, সিলেট ও চট্টগ্রাম-এ সাতটি ভ্যালি কার্যকরী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এবারের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ৩ হাজারের বেশি প্রার্থী এবং প্রায় ৬ শতাধিক প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশের ২৩১টি চা-বাগানের লক্ষাধিক নারী-পুরুষ চা-শ্রমিক নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপপরিচালক মহব্বত হোসাইন জানান, শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত