ভেতর ও বাইরে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : রিজভী

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি কঠিন সংকটের মধ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের কলকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব পড়েছে।

রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে নানা ধরনের উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন কর্মকা-ের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল এবং দেশ ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। সেই লড়াইয়ের চেতনা থেকেই সরকার গণতান্ত্রিক সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের নীতিতে সরকার দেশ পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের বিকাশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ পথে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, দেশের রাজনৈতিক বিষয়গুলো সংসদে বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সে পথে না গিয়ে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে। দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব বিষয়কে উপেক্ষা করে অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যারা ‘বিপ্লবের’ কথা বলছেন, তাদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্র ও একটি নীতি-আদর্শের জন্য ১৭ বছর আন্দোলন করেছে। এ আন্দোলনে অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, রক্ত ঝরেছে।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। জনগণের আশাপূরণ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, এম এ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত