গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় আন্দোলনকালে আহত শ্রমিক তৌফিক মিয়ার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর তার স্মরণে আয়োজিত গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১টার দিকে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) ও শ্রমিক শক্তির আয়োজিত গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতি পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে উপস্থিত নেতাকর্মী ও শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা তৌফিক মিয়া (২০)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ওই শ্রমিকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মঙ্গলবার দুপুরে চান্দনা চৌরাস্তায় এনসিপির পূর্বঘোষিত গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। জানাজার নামাজ শুরুর আগে এনসিপি ও শ্রমিক শক্তির কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাসের খানের বক্তব্য সম্পন্ন হওয়ার পর নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত শ্রমিকরা জানাজার জন্য কাতারবদ্ধ হতে গেলে পুলিশ বাধা প্রদান করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষেধ সত্ত্বে ও উপস্থিত নেতাকর্মীরা গায়েবানা জানাজা সম্পন্ন করার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে তাৎক্ষণিক সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে উপস্থিত জনতা ও নেতাকর্মীরা চারদিকে ছুটাছুটি করে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আলী নাসের খান বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অহেতুক ও বরবরভাবে বাধা দিয়েছে। আমরা নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিকের নির্মম হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি এবং একই সাথে পোশাক শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।’
‘কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের গায়েবানা জানাজা টুকুও পড়তে না দিয়ে সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে হামলা করা হলো,’ বলেন তিনি।
তবে জানাজার প্রস্তুতিতে বাধা এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কেউ সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।