ফরিদপুরে ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে দেশব্যাপী ডাকাতি ও ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ডাকাতি করা একটি ইয়ামাহা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৬টি মামলার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে  ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল (ডিবি) একটি মামলার তদন্তে নেমে নতুন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার কথা বলে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ছিনতাই করে। এ ছিনতাইয়ের ঘটনা চক্রের অন্যতম হোতা পুলিশের চাকরিচ্যুত মো. লিমন মিয়া (৩৪) ও তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে লিমনের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার নান্দাহা গ্রামে এবং সাখাওয়াতের বাড়ি একই উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামে।

জিজ্ঞাসাবাদে লিমন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন। সিডিএমএস যাচাই করে লিমনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার সূত্র ধরে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খুলনার লবণচরা থানার বাসিন্দা। বর্তমানে ফরিদপুরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় মাজেদ মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

অভিযানে জাহাঙ্গীরের হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় ডাকাতি করা একটি ইয়ামাহা ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা রূপগঞ্জে ডাকাতি করে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছিলেন। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও মোটরসাইকেল চুরি করে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলায় বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক আইনের মামলাসহ অন্তত পাঁচটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, গ্রেপ্তাকৃতদের সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর তদন্তের পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মালামাল উদ্ধারে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধচক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত